Soil & Soul

Soil & Soul Gardening, Rooftop garden, nature, tree, forrest.

অধিকাংশ মানুষ জানেই না বজ্রপাত আমাদের জন্য আসলে কী করে!যে বজ্রপাতকে আমরা প্রকৃতির ধ্বংসলীলা বলে মনে করি, আপনি কি জানেন—ত...
08/06/2026

অধিকাংশ মানুষ জানেই না বজ্রপাত আমাদের জন্য আসলে কী করে!
যে বজ্রপাতকে আমরা প্রকৃতির ধ্বংসলীলা বলে মনে করি, আপনি কি জানেন—তা যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে পৃথিবীর সমস্ত জীবজগৎ একদিন না খেয়ে মারা যাবে?
আমরা যখন আকাশে মেঘের বিকট ডাক শুনি বা বিদ্যুৎ চমকাতে দেখি, তখন স্বাভাবিকভাবেই ভয়ে জানলা-কপাট বন্ধ করে দিই। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান এবং উদ্ভিদবিজ্ঞানের জানলা দিয়ে তাকালে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতার দেখা মেলে।
আমরা যে সবুজ প্রকৃতি দেখি বা যে শস্যদানা আমাদের প্লেটে তুলে নিই, তার একটি বড় অংশের জোগান আসে আকাশ থেকে ছিটকে পড়া এক একটি ভয়ংকর বজ্রপাতের মাধ্যমে। যে বজ্রপাত দেখে আমরা আঁতকে উঠি, জানলে অবাক হবেন—সেটি যদি না হতো, তবে পৃথিবীর সমস্ত গাছপালা পুষ্টির অভাবে মরে যেত এবং পুরো পৃথিবী এক ধূসর মরুভূমিতে রূপ নিত।
আমাদের বেঁচে থাকার জন্য যেমন অক্সিজেন লাগে, তেমনি পৃথিবীর সমস্ত গাছপালার বেঁচে থাকার আর বড় হওয়ার জন্য সবচেয়ে জরুরি উপাদান হলো নাইট্রোজেন। আমাদের বাতাসে প্রচুর নাইট্রোজেন আছে (প্রায় ৭৮%)। কিন্তু সমস্যা হলো, গাছ এত বোকা যে বাতাস থেকে সরাসরি এই নাইট্রোজেন টেনে নিতে পারে না। এটা অনেকটা এমন—আপনি সাগরের মাঝখানে তৃষ্ণায় ছটফট করছেন, কিন্তু নোনা পানি হওয়ায় তা পান করতে পারছেন না!
গাছের এই অসহায়ত্ব দূর করতেই প্রকৃতিতে ঘটে এক অলৌকিক মেকানিজম।
যখন আকাশে মেঘে মেঘে প্রচণ্ড ঘর্ষণ লাগে এবং লাখ লাখ ভোল্টের বিদ্যুৎ চমকায়, তখন ওই এলাকার তাপমাত্রা সূর্যের পৃষ্ঠভাগের চেয়েও বেশি গরম হয়ে যায়। এই অবিশ্বাস্য তাপে বাতাসে ভেসে থাকা অলস নাইট্রোজেন আর অক্সিজেন জোরপূর্বক একে অপরের সাথে জোড়া লেগে তৈরি করে ‘নাইট্রেট’ বা প্রাকৃতিক সার।
এরপর বৃষ্টির ফোঁটাগুলো যখন আকাশ থেকে নিচে নামে, তারা ওই নাইট্রেটকে সাথে করে মাটির ভেতরে নিয়ে যায়। মাটি তখন পরম তৃপ্তিতে এই ‘রেডিমেড খাদ্য’ শুষে নেয়, যা শেকড়ের মাধ্যমে গাছের কোণায় কোণায় পৌঁছে যায়। আর তাতেই গাছপালা হয়ে ওঠে সবুজ ও সতেজ। অর্থাৎ, প্রতিটি বজ্রপাত আসলে কোটি কোটি টাকার নাইট্রোজেন সার ফ্রিতে মাটিতে স্প্রে করে দিয়ে যায়!
আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে, যখন মানুষের কোনো ল্যাবরেটরি ছিল না, রসায়নের কোনো বালাই ছিল না—তখন পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা একদম স্পষ্ট করে এই রহস্যের কথা আমাদের জানিয়ে দিয়েছিলেন:
“আর তাঁর অন্যতম নিদর্শন হলো, তিনি তোমাদেরকে ভয় ও ভরসা দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ দেখান এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা দ্বারা মৃত্তিকাকে (মাটিকে) পুনরুজ্জীবিত করেন।” > — (সুরা আর-রূম: ২৪)

সুবহানাল্লাহ! একটু আয়াতটার দিকে তাকান। আল্লাহ প্রথমে বললেন বিদ্যুতের (ভয়) কথা, তারপরেই বললেন বৃষ্টির কথা, আর তার ঠিক পরপরই বললেন মৃত মাটিকে বাঁচিয়ে তোলার (ভরসা) কথা! বিজ্ঞান আজ ২০ শতকে এসে প্রমাণ করল যে বজ্রপাতের বিদ্যুতই মূলত মাটিকে নাইট্রোজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে। অথচ কুরআন এই সিকোয়েন্সটা ১৪০০ বছর আগেই সাজিয়ে রেখেছে।
আমরা যেটাকে প্রকৃতির তাণ্ডব বা শাস্তি ভাবি, তার ভেতরেও আমাদের বেঁচে থাকার কত বড় নেয়ামত লুকিয়ে আছে—ভাবা যায়?
আমাদের রব যে কী সুনিপুণ কারিশমায় আমাদের রক্ষা ও লালন করেন এবং আমাদের জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে তাঁর কী পরিমাণ কুদরত লুকিয়ে আছে—তা আমাদের কল্পনার বাইরে।

#ছাদবাগান #কৃষি

ছোটবেলার কথা মনে পড়ে? বৃষ্টির পর ধানক্ষেতের আইল বা পুকুরপাড়ে শামুকের দেখা পাওয়াটা ছিল খুব সাধারণ দৃশ্য। কিন্তু প্রকৃতি থ...
26/05/2026

ছোটবেলার কথা মনে পড়ে? বৃষ্টির পর ধানক্ষেতের আইল বা পুকুরপাড়ে শামুকের দেখা পাওয়াটা ছিল খুব সাধারণ দৃশ্য।

কিন্তু প্রকৃতি থেকে ধীরগতির এই প্রাণীটির বিদায় কেবল একটি প্রজাতির বিলুপ্তি নয়, বরং এটি আমাদের প্লেটের খাবার এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য এক বিশাল অশনিসংকেত। প্রকৃতি থেকে একটি সাধারণ শামুক হারিয়ে যাওয়ার সাথে আমাদের শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি এবং হাড়ের খনিজ ঘনত্ব (Bone Mineral Density) কমে যাওয়ার এক গভীর ও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে।

​প্রকৃতির বাস্তুসংস্থানে ক্যালসিয়ামের একটি নির্দিষ্ট আবর্তন বা 'ক্যালসিয়াম চক্র' (Calcium Cycle) ঘটে। শামুকের শক্ত খোলস মূলত ক্যালসিয়াম কার্বনেট দিয়ে তৈরি। ডাঙায় যখন শামুক মারা যায় বা খোলস পরিত্যক্ত হয়, তখন মাটির অণুজীব ও হিউমিক এসিডের সাথে মিথস্ক্রিয়ায় এই ক্যালসিয়াম এমন এক ফর্মে রূপান্তরিত হয়, যা গাছ খুব সহজেই শেকড় দিয়ে শোষণ করতে পারে।

অন্যদিকে, জলজ বাস্তুসংস্থানে (Aquatic Ecosystem) আমাদের দেশীয় মাছ—যেমন কৈ, শিং, বা বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক খাদ্য হলো এই শামুক বা ঝিনুক জাতীয় প্রাণী। মাছ যখন এগুলো খায়, তখন সেই ক্যালসিয়াম সরাসরি মাছের কাঁটা ও শরীরে গিয়ে জমা হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় খনিজ উপাদানের এই প্রাকৃতিক স্থানান্তরকে বলা হয় 'বায়োঅ্যাকিউমুলেশন' (Bioaccumulation)।

​কিন্তু গত কয়েক দশকে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটি এবং জলাশয়—উভয় জায়গা থেকেই ক্যালসিয়াম-শোষণকারী এই প্রাণীরা দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে। কৃষিজমির রাসায়নিক বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে সরাসরি খাল-বিল ও পুকুরে গিয়ে পড়ছে। এই বিষক্রিয়ায় মাটির ক্যালসিয়াম চক্র যেমন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি জলজ খাদ্যশৃঙ্খলের (Food Web) ভিত্তিও ভেঙে পড়ছে।

​আমরা হয়তো ফুড সেফটি বা খাদ্যের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাজার থেকে আনা সবজির কীটনাশক ধুয়ে পরিষ্কার করছি, কিন্তু খাবারের ভেতরের যে পুষ্টিগুণ হারিয়ে গেছে, তা কি ফেরাতে পারছি? কৃষকের কৃত্রিম ক্যালসিয়াম সার বা বাণিজ্যিক পুকুরে দেওয়া আর্টিফিশিয়াল ফিশ ফিড দিয়ে চাষ করা চকচকে সবজি ও বড় মাছে সেই প্রাকৃতিক খনিজ ঘনত্ব (Nutrient Density) আর তৈরি হচ্ছে না।

​খাদ্যশৃঙ্খলের এই শূন্যতার সরাসরি আঘাত পড়ছে আমাদের মেটাবলিক স্বাস্থ্যে। আমরা যখন প্রাকৃতিক উৎসের কাঁটাসহ ছোট মাছ চিবিয়ে খেতাম, তখন সেই ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং কোলাজেন খুব সহজেই আমাদের পরিপাকতন্ত্রে শোষিত হতো। পুষ্টিহীন ও অণুজীবহীন আধুনিক খাবার খেয়ে আমাদের অন্ত্রের পরিবেশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। খাদ্যে পর্যাপ্ত 'বায়োঅ্যাভেলেবল' (Bioavailable) বা সহজে গ্রহণীয় ক্যালসিয়ামের অভাবে আধুনিক মানুষের মাঝে অস্টিওপেনিয়া (Osteopenia) এবং অস্টিওপরোসিস (Osteoporosis)-এর মতো হাড় ক্ষয়ের সমস্যা আজ মহামারি আকার ধারণ করেছে। আমরা হয়তো ঘাটতি মেটাতে দামি ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছি, কিন্তু কোষের গভীরে সেই পুষ্টি ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে না, কারণ তা প্রকৃতির নিজস্ব কাঠামোর মতো সুগঠিত নয়।

​এর সমাধান শুধু ফার্মেসির তাকে খুঁজলে পাওয়া যাবে না। মেটাবলিক স্বাস্থ্য ফেরাতে হলে আমাদের শেকড়ে ফিরতে হবে। রিজেনারেটিভ বা পুনরুজ্জীবনমুখী কৃষিকে সমর্থন করা এবং প্রাকৃতিক জলাশয়গুলোকে দূষণমুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কেবল ট্যাবলেটের ওপর নির্ভরশীল না থেকে, প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত ক্যালসিয়াম-সমৃদ্ধ দেশীয় শাকসবজি এবং কৃত্রিম ফিডমুক্ত কাঁটাযুক্ত ছোট মাছ যুক্ত করা অপরিহার্য।

​খাদ্যশৃঙ্খলের প্রতিটি প্রাণী একে অপরের সাথে এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা; প্রকৃতি থেকে একটি ছোট শামুক হারিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো, আমাদের শরীরের কাঠামো থেকে একটু একটু করে ক্যালসিয়াম খসে পড়া।
​

Address

718, Lane :13, Ashkona, Dakshinkhan
Dhaka

Telephone

+8801850505041

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Soil & Soul posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share