27/09/2026
Angel Sumaiya Odora Md Jasim Uddin Sourov ゚
আমার রাজকন্যা
“জাইফা বিনতে সৌরভ”
সে তো
“বাবা-মায়ের পৃথিবী”
জাইফা, এই ছোট্ট নামটির মধ্যেই আমাদের পুরো পৃথিবীটা লুকিয়ে আছে। আমাদের কাছে কন্যাশিশু শুধু একটি সন্তান নয়, সে আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দরতম অধ্যায়। একটি কন্যাশিশু শুধু একটি পরিবারের সদস্য নয়, সে যেন পুরো পরিবারের ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু। আমার ছোট্ট মেয়েটিও আমার জীবনে ঠিক তেমনই এক টুকরো আনন্দ, যার হাসিতে আমাদের ক্লান্তি দূর হয়, যার স্পর্শে মন ভরে যায় প্রশান্তিতে।
আমরা দু'জন চাকরিজীবী। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে যখন বাসায় ফিরি ক্লান্ত শরীর নিয়ে, তখন আমাদের কলিজার আধখানা জাইফাকে দেখলে নিমেষেই ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। জাইফা আমাদের দেখলে ছোট ছোট দু'পা নেচে নেচে সামনে হেঁটে আসে, কোলে ওঠে, ঝাপটে ধরে, “মা মা, বাবা বাবা” বলে চিৎকার করে। সে কী যে এক আনন্দ, আহা! সেই মুহূর্তটা যেন পৃথিবীর সব সুখ আমাদের বুকের মধ্যে এসে জমা হয়। এই মুহূর্তগুলো হৃদয়ে চিরদিনের জন্য গেঁথে থাকবো। এই মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করা যায় না, কোনো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, শুধু হৃদয়ের গভীরে যত্ন করে রেখে দিতে হয়। বাবা-মা যতদিন আছে, হৃদয় দিয়ে তোমাকে আগলে রাখবে, মা। কোনো কষ্ট তোমাকে যেন না ছুঁতে পারে।
স্মরণীয় একবার জাইফার খুব ঠান্ডা, জ্বর হয়েছিল। প্রথমে সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার দেখালাম। ৫ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দিল। ওষুধ খাওয়ালে বমি করতো, আর কান্না করতো। সেই সাথে আমিও কান্না করতাম। কী যে কষ্ট! সুস্থ হওয়ার কোনো লক্ষণ না দেখে ডাক্তার পরিবর্তন করে অধ্যাপক ডাক্তার দেখালাম। পূর্বের ডাক্তারের ফাইল দেখে খুব রাগ করলো, “এত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ কেন?” তারপর সে ১টি অ্যান্টিবায়োটিক ও ঠান্ডা, জ্বরের জন্য নরমাল ২টা ওষুধ দিলো। আলহামদুলিল্লাহ, ৩ দিনেই আমাদের মেয়ে সুস্থ হলো।
আমার রাজকন্যার বয়স মাত্র ১ বছর ৪ মাস। তুমি আমাদের জীবনে আসতেই আল্লাহ আমাদের অনেক নিয়ামত দান করেছে।
বল খেলতে জাইফা ভীষণ ভীষণ পছন্দ করে। বাংলাদেশ মাঠে গিয়ে সে বল খেলে। যত বল দেখবে, তত চিৎকার দিবে, আর সেটাই তার লাগবে।
জাইফা একটু একটু করে অনেক কিছু শিখেছে: Head, hair, nose, eye, cheek, teeth, tongue, hand, finger, leg, knee জিজ্ঞেস করলে হাত দিয়ে দেখাতে পারে। মাশাল্লাহ। ভালোবেসে তাকে পক্ষীসোনা বলি।
জাইফার বাবার সবচেয়ে প্রিয় মুহূর্ত হলো, তার বুকের ওপর যখন ঘুমিয়ে যায়, আর সে জেগে ওঠার ভয়ে নড়াচড়া করে না। বাবা হওয়ার আসল সুখ কতটা গভীর, বুঝতে পারে। শুধু তার নিঃশ্বাসের শব্দ শুনে, মনোযোগ দিয়ে, আর আল্লাহকে বলে, “আমার জাইফার মতো আরও ১০০টি জাইফা আমাকে দাও।” 🤲 সন্তানকে দেওয়া সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ি না, মূল্যবান জিনিস হলো ৩টি—
১। নিরাপদ জায়গা,
২। সময়,
৩। ভালোবাসা।
জাইফার ঘুম ভাঙে হাসি আর সালাম দিয়ে। তার হাসিতে আমাদের সকালটাও হেসে শুরু হয় মিষ্টিভাবে। ব্রাশ করে কালিজিরা আর পানি খেয়ে সকাল শুরু হয়।
তোমাকে নিয়ে লিখলে শেষ হবে না কখনোই। আমার মেয়ের প্রতিটা সেকেন্ডই আমার কাছে সেরা স্মৃতি।
জাইফা, তুমি আমাদের জীবনের সবচেয়ে মায়াবী অধ্যায়। আমাদের হৃদয়ে লেখা সবচেয়ে সুন্দর গল্প, যে গল্পের প্রতিটা পাতায় আনন্দ, মায়া এবং অফুরন্ত ভালোবাসা বিদ্যমান।
-Sweety Akter
In Association with Gazi Home Appliance
#আমাররাজকন্যা