29/09/2026
|| ঘুমের আগের সময়টুকু সন্তানের জন্য রাখুন ||
স্ক্রল না করে একটু থামুন!
একটা প্রশ্ন করি, ভেবে উত্তর দেবেন। আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় ইনভেস্টমেন্ট কী?
উত্তর এখন দেওয়ার দরকার নেই। আমার বাকি আলাপটা পড়ুন এবং চোখ বন্ধ করে একটু ভাবুন।
আপনি হয়তো এখন বাবা অথবা মা। আপনার আদরের সন্তানের দিকে তাকান আর মুগ্ধতায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। তার জন্য আপনার জীবন কুরবান। প্রতিদিন সকালে অফিসে যান বা কাজে বের হন, নানান কিসিমের মানুষের অযাচিত কথাবার্তায় মন খারাপ হয়। ভাবেন, যদি এই চাকরিটা, এই কাজটা, এই মানুষগুলোকে এভয়েড করা যেত!
পরক্ষণেই আদরের ছোট্ট সোনামণিটার কথা মনে পড়ে, ও যে কুটকুট করে হাসে, ওই মুখটা চোখে ভাসে। তখন পৃথিবীর সব ক্লেশকে নস্যি মনে হয়। এত আদুরে একটা বাবার জন্য দুনিয়ার সব যন্ত্রণা সহ্য করাই যায়।
আচ্ছা, এবার বলুন তো, যে বাবুটা আপনার গোটা দুনিয়া, যে আপনার সমস্ত ধ্যান-জ্ঞান, যার জন্য আপনি দুনিয়া তোলপাড় করে দিতে রাজি, তাকে কতটুকু সময় দিচ্ছেন?
একটা জমি কেনার এরাদা করলে আমরা কত এফোর্ট দিই! একটা ঘর বাঁধতে গেলে কী যে শ্রম আমাদের খরচ হয়! তাহলে যে সন্তান আপনার পরিচয় বহন করবে, যে আপনার নাম ধারণ করবে, যার দুআ কবরেও আপনাকে সুখ দেবে, তার জন্য কেমন সময় ইনভেস্ট করা দরকার? কতটা পরিকল্পনা, ত্যাগ তার জন্য থাকা উচিত? আপনি তাকে দুনিয়ার সব এনে দিচ্ছেন, কিন্তু একটু সময় দিচ্ছেন না, একটু গল্প করছেন না, এটা কি সুবিচার হচ্ছে?
একটা বাড়ি মনের মতো করে তুলতে আমরা কী দিই? শুধু কি কষ্ট করে উপার্জন করে আনা টাকা? না। আমাদের মায়া, স্পর্শ, পরিকল্পনা, গল্প—সব মিশিয়ে দিই বাড়ির সঙ্গে।
আচ্ছা, একটু খেয়াল করে দেখুন তো, আপনার সন্তানের সঙ্গে কখনো প্রাণখুলে গল্প করেছেন? আপনার চিন্তা ও সম্ভাবনা দিয়ে তাকে আলোড়িত করার চেষ্টা? কিংবা ওর ভেতরের সুপ্ত প্রতিভা নিয়ে ভেবেছেন কখনো? শিখিয়েছেন কি ওকে স্বপ্ন দেখতে?
প্রতি রাতে ঘুমুবার আগে একটুখানি গল্প কি তার জন্য বরাদ্দ থাকে? আপনি যদি চান, আপনার সন্তানেরা সাহাবিদের মতো আমলওয়ালা, পরিশ্রমী, সাহসী, ত্যাগী, আল্লাহপ্রিয়, নবীপ্রেমিক, জান্নাতি হোক, তবে অবশ্যই আপনাকে প্রতিদিন সন্তানকে সাহাবিদের সেসব গল্প শোনাতে হবে। সাহাবিদের উপার্জন, জীবনযাপন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রভৃতি তাকে শেখাতে হলে গল্পের বিকল্প নেই।
copy post