04/09/2026
চো-রে ভর্তি দেশে চার মোরগের ০২ (দুই) ঠ্যাঙ!!!
ইদানিং নিয়মিত কাঁচা বাজারে যাওয়ার সময় হয় না; গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে টাউন হল বাজার থেকে ০৪টি মোরগ কিনছিলাম। তখন ওজন ছিল ৫ কেজি ৬০০ গ্রাম। আমি দোকানদারকে মুরগি জ-বাই করে ছোট ছোট পিস করে দিতে বলে কাঁচাবাজার করতে গিয়েছিলাম। তারপর বাজার শেষে মুরগি নিতে এসে সন্দেহ হলো; আমি বললাম মাংসগুলো স্কেলে উঠাওতো! ওজনে ৩ কেজি ৬০ গ্রাম হলো! আমার সাথে আমার একজন বড়ভাই অতিথি ছিলেন। তিনি বললেন, "বোঝা শেষ! কাম আগেই সেরে দিয়েছে। ৫ কেজি ৬০০ গ্রাম কেটে কখনো ৩ কেজি ৬০ গ্রাম! এত কম হবে না।" আমি বোকা বনে গেলাম।
আমি ঐ বড়ভাইয়ের সাথে বাসায় ফিরে মাংসগুলো পরীক্ষা করলাম। দেখা গেলো - সবগুলো ০৮পিস করে আছে কিন্তু মুরগির সামনের রান মাত্র ০২ পিস! ০৬ পিস মিসিং!! আমার মাংস চু-রি গেছে কিন্তু আমার বোকামির লজ্জায় আমি মুখ লোকাতে পারছি না। নিজেকে অসহায় লাগছিলো যে- আমি সবকিছুতে এভাবেই ঠকে গেলাম! আমি কেন এগুলো আগে থেকে বুঝলাম না? তার মানে এতকাল আমি এভাবে ঠকে আসছি? নিজেকে প্রশ্ন করলাম, আর লজ্জিত হলাম।
তারপর আমার এতএত রাগ হলো যে, সিদ্ধান্ত নিলাম এখনই গিয়ে কিছু একটা করে আসি। তখন অতিথি বড় ভাই বললেন, "বাদ দাও।" সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলাম; আমি আর কিছু করলাম না।
তারপর দুইজন মিলে আমরা পরিকল্পনা করলাম, এই চো-র খুব সহজে ধরবো। তার দোকান থেকে আবার ৬/৭টি মুরগি কিনে সরলভাবে কাটতে দিয়ে বাজার থেকে ঘুরে এসে মাংসগুলো বুঝে নিবো গুনে নিবো এবং চু-রি করলে হাতেনাতে ধরবো।
যা হোক আমার ধৈর্য্য আজীবনই কম। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম চো-রের দোকান থেকে আর কিছু কিনবো না। আমি আজকে গিয়ে মুরগি কেনা ছাড়াই তাদের দেওয়া মাংসের ভিডিওটা দেখালাম। তখন আশেপাশের মুদি দোকানি এসে বললেন, "তাদের বিরুদ্ধে মাঝেমাঝেই এই অভিযোগ আসে।"
আমি আশেপাশে তাকাতেই দেখলাম মাথার উপর সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। তখন জিজ্ঞেস করলাম, "এই ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ কার কাছে?এই ক্যামেরা ওপেন করো।" তারা আর ক্যামেরা ওপেন করছে না৷ আমি ফোন বের করে বললাম, "আমি থানায় ফোন করে পুলিশ এনে তোদের ধরিয়ে দিব। কী করেছিস এখনো বল! না হলে ভোক্তা অধিদপ্তরের লোক ডাকবো।"
তখন তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করলেন! এবং বললেন, "আমাদের ভুল হয়েছে।" বলতে বলতে তারা বড় একটি মোরগ ধরে জ-বাই করে ফেলেছে। দ্রুত পরিষ্কার করে ব্যাগে করে আমার দিকে দিয়ে বলছে, "স্যার, এটা নিয়ে যান। আমাদের ভুল হয়েছে।"
আমি বললাম, "না। আমি এই মাংস কেন নিব? আমি তো এই মাংস কিনি নাই। যতটুকু চু-রি করেছো ততটুকু আমার দাবী থাকবে।" আমি পরে চলে আসলাম।
আশেপাশের দোকানদাররা বললেন, "স্যার, এরা পাক্কা চো-র। এদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাংস চু-রির অভিযোগ আসে।"
পাশেই আরেক জন মাংস চু-রির অভিযোগ করছেন। আমি পরিচয় জিজ্ঞেস করলাম, তিনি জানালেন, "আমি সেন্ট জোসেফ স্কুলের প্রফেসর। গতকাল মাংস নিয়েছি আনুমানিক ৩০% বা ৪০% মাংস চু-রি করে নিয়েছে।" আমি তার অভিযোগ শুনলাম দেখলাম, চু-রির সিস্টেম ঐ একই। মুরগির সামনের দিকের রানের মাংসগুলো নাই!!
এতো গেলো মুরগি মাংস চো-রের গল্প। মাছের বাজারেও একই কাহিনি!
আপনি যাবেন কোথায়?
চো-রের ভীরে আপনি ধাপ ফেলতে পারবেন না। চো-র সিন্ডিকেট আশেপাশে, সামনে-পেছনে, আকাশে বাতাসে সবখানে।
একটি জাতির এ টু জেড বিস্তৃত অধিকাংশ চো-র। স্যুট-ট্রাই পরা থেকে মুরগীওয়ালা সবখানে চো-র আর চো-র। চো-রে খপ্পরে জীবন অতিষ্ঠ, আমি লজ্জিত।
©আব্দুর রাজ্জাক
Collected post from facebook