Ar.Niloy

Ar.Niloy একজন সংবেদনশীল স্থপতি, তার সৃজনশীল চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে করা স্থাপত্য চর্চায় সমাজ বদলে দিতে পারে... একজন স্থপতি , স্বপ্ন দেখি স্বপ্ন দেখাই ।

স্থাপত্য—অঙ্কের বাইরে এক টুকরো স্বপ্নস্থাপত্য আর পুরকৌশল বা ইঞ্জিনিয়ারিং—এই দুটির মধ্যে একটা মৌলিক পার্থক্য আছে।স্থাপত্...
22/08/2026

স্থাপত্য—অঙ্কের বাইরে এক টুকরো স্বপ্ন

স্থাপত্য আর পুরকৌশল বা ইঞ্জিনিয়ারিং—এই দুটির মধ্যে একটা মৌলিক পার্থক্য আছে।

স্থাপত্যের ভেতর প্রকৌশলের অঙ্ক আছে, হিসাব আছে, মাপজোক আছে, কাঠামোর যুক্তি আছে। কিন্তু তার সঙ্গে আরও কিছু আছে—প্রাণ আছে, আবেগ আছে, কল্পনা আছে, স্বপ্ন আছে।

একজন স্থপতি যখন কোনো একটি বাড়ি, একটি ঘর কিংবা একটি বিশাল প্রকল্পের নকশা করেন, তখন তাকে আসলে কিছু সময়ের জন্য একটা কল্পনার জগতে বিচরণ করতে হয়। অন্যের বাড়ি, অন্যের ঘর, অন্যের জীবনযাপনের জন্য জায়গা তৈরি করতে করতে কখন যেন সেই বাড়িটাকেই নিজের মনে হতে শুরু করে। নকশা করতে করতে স্থপতি নিজের অজান্তেই সেই বাড়ির ভেতর বসবাস করতে শুরু করেন—কল্পনায়, স্বপ্নে।

একটা বড় প্রকল্পের হাজারো বর্গফুটের মধ্যে হয়তো মাত্র কয়েক বর্গফুটের একটা ছোট্ট কর্নার থাকে, যেটা হয়ে ওঠে স্থপতির সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। সেখানে হয়তো একটা জানালা থাকবে, সকালের আলো এসে পড়বে, পাশে একটা গাছ থাকবে—ব্যস, সেই সামান্য জায়গাটুকুতেই স্থপতি তার পুরো স্বপ্নটা দেখতে পান।

এই কারণেই স্থাপত্যের প্রতিটি নকশার পেছনে শুধু অঙ্ক থাকে না; থাকে অসংখ্য কল্পনার বিচরণ।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশে একজন স্থপতির করা স্থাপত্য সবসময় তার কল্পিত রূপটি বাস্তবে দেখতে পায় না।

স্থপতিকে দিয়ে নকশা করানোর পরও অনেক সময় নির্মাণের পর্যায়ে এসে স্থাপনার চেহারা বদলে যায়। কারণ শেষ পর্যন্ত স্থপতির সাথে একি স্বপ্ন দেখা বাড়ির মালিকের পছন্দ, চাহিদা নির্মানের রুপ দেখা সেই স্থাপনায় তার মত করে সাজানোর ইচ্ছায় স্থপতিকে বাদ দিয়েই অনেক কিছু যুক্ত করা শুরু হয় , বাস্তবতার সঙ্গে স্থপতির কল্পনার একটা সংঘাত তৈরি হয় ।

অনেক সময় স্থপতির নকশায় করা সেই স্থাপনায় স্থপতিকে নেয়াও বাড়তি খরচ মনে করা হয়। ফলে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু রেখে বাকি অংশে নিজের মতো করে রং মাখিয়ে, উপকরণ বদলে, কোনো একটা অংশ বাদ দিয়ে কিংবা নতুন কিছু যোগ করে ভবনটাকে এমন একটা রূপ দেওয়া হয়—যেটা হয়তো স্থপতির কল্পনার সঙ্গে আর কোনোভাবেই মেলে না।

দিন শেষে স্থাপনাটি দাঁড়িয়ে থাকে ঠিকই, কিন্তু তার মধ্যে সেই স্বপ্নের পুরোটা আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

এই অপুর্নতার ক্ষেদটা একজন স্থপতির ভেতরে থেকে যায়।

এদেশে না বলা একটা কঠিন বাস্তবতা হলো, একজন স্থপতির করা প্রতিটি স্থাপনা যে অসাধারণ সুন্দর হবে, সেটা বাস্তবতার নিরিখে কখনোই সম্ভব নয়। একটি ভালো স্থাপত্যের জন্য শুধু ভালো ডিজাইনই যথেষ্ট নয়।

ভালো ডিজাইন, স্থাপত্যবোধসম্পন্ন একজন ক্লায়েন্ট, সেই সাথে স্বপ্নের রুপ দেয়ার পর্যাপ্ত সামর্থ্য, নির্মাণের মান এবং নকশার প্রতি আস্থা—সবকিছু যখন একই জায়গায় এসে মিলিত হয়, তখনই হয়তো একটি স্থাপত্য তার কাঙ্ক্ষিত রূপটি পেতে পারে।

অন্যথায় স্থপতির কল্পনার রঙতুলিতে আঁকা সেই স্থাপনাগুলো অনেক সময় কাগজেই থেকে যায়—একটা স্বপ্ন হয়ে।

এই জীবনে কম স্থাপনা নকশা করিনি।

কিছু বাস্তবতার রূপ পেয়েছে।
কিছু নির্মাণের পথে হারিয়ে গেছে।
কিছু হয়তো এখনো নির্মাণের অপেক্ষায়।
আর কিছু—সম্ভবত চিরকালই আমার কল্পনার জগতের অংশ হয়ে থাকবে।

তবুও স্থপতির পথচলা থেমে থাকে না।

প্রতিটি নতুন নকশার সঙ্গে আবার নতুন করে একটা স্বপ্ন জন্ম নেয়। আবার একটা বাড়ির ভেতর হাঁটি, আবার একটা ঘরের জানালা দিয়ে আলো দেখি, আবার কোনো ছোট্ট কর্নারকে নিজের প্রিয় জায়গা বানিয়ে ফেলি।

হয়তো কোনো একদিন, কোনো একটা স্বপ্ন—যেভাবে কল্পনার রংতুলিতে এঁকেছিলাম, ঠিক সেভাবেই বাস্তবতার রূপ পাবে।

সেই আশাতেই একজন স্থপতির জীবন কেটে যায়।

স্বপ্ন বুনতে বুনতে।
নকশা করতে করতে।
আর কল্পনার জগৎ থেকে বাস্তবতার পৃথিবীতে একের পর এক স্থাপত্যকে জন্ম দেওয়ার অপেক্ষায় ..................

স্থপতি নিলয়
২২/৮/২৬

AI এর যুগে নিজের করা কিছু ডিজাইন প্রজেক্ট কে জল রঙে রুপান্তর করে দেখতে গিয়ে মনের মধ্যে তৈরি ভাবনা থেকে লিখা।

Integral design studio Hasan Shahriar Khan

বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ এত বাড়ছে—এর পেছনে কি বিদ্যুৎ চুরির একটা বড় ভূমিকা আছে?আজকে সাইটে ইলেকট্রিক্যালের কাজ করা একজন কন্ট্রা...
17/08/2026

বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ এত বাড়ছে—এর পেছনে কি বিদ্যুৎ চুরির একটা বড় ভূমিকা আছে?

আজকে সাইটে ইলেকট্রিক্যালের কাজ করা একজন কন্ট্রাক্টরের সঙ্গে কথা বলতে বলতে একটা বিষয় নতুন করে মাথায় এলো।

কিছুদিন ধরে ঢাকার অনেক মানুষের অভিযোগ—বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। অনেকের মনে হচ্ছে, আগের তুলনায় বিদ্যুৎ ব্যবহার খুব একটা না বাড়লেও বিল যেন লাফিয়ে বাড়ছে।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে—
এর পেছনে আসলে কী কারণ?

আমি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিচ্ছি না। বরং একটা সম্ভাব্য বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছি।

বিদ্যুৎ চুরি—কিন্তু খরচটা কে দিচ্ছে?

বিদ্যুৎ এমন কোনো পণ্য নয়, যেটা উৎপাদন করে গুদামে রেখে দেওয়া যায়। উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিডে আসে এবং সঙ্গে সঙ্গে কোথাও না কোথাও ব্যবহৃত হয়।

এখন ঢাকার রাস্তার দিকে তাকান।

শহরজুড়ে হাজার হাজার ব্যাটারি চালিত রিকশা চলছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ব্যাটারি চার্জ হচ্ছে। এর জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎও দরকার।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—
এই বিদ্যুতের কতটা বৈধভাবে মিটারের মাধ্যমে বিল হচ্ছে?

অভিযোগ আছে, অনেক জায়গায় অননুমোদিত চার্জিং পয়েন্টে মিটার বাইপাস করে বা অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে এসব রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা হচ্ছে।

যদি সত্যিই ব্যাপকভাবে এমনটা ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি শুধু বিদ্যুৎ চুরি নয়—এটা পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর একটা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ।

কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি লাগে। বিদ্যুৎ পরিবহনে অবকাঠামো লাগে। বিতরণে খরচ হয়।

অর্থাৎ কেউ বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে তার একটা অর্থনৈতিক মূল্য অবশ্যই আছে।

কিন্তু সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার হলো, অথচ তার বিপরীতে রাজস্ব এলো না—তাহলে সেই ঘাটতি কোথাও না কোথাও হিসাবের মধ্যে থাকবেই।

এটাই নন-টেকনিক্যাল লস বা সিস্টেম লসের একটা অংশ হতে পারে।

এখন আসল প্রশ্নটা হলো—

এই ক্ষতির টাকা শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে?

সরকার?
বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান?
নাকি শেষ পর্যন্ত বৈধভাবে বিল দেওয়া সাধারণ মানুষ?

আমি আবারও বলছি—আমার বক্তব্যটা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
এটা একটা হাইপোথিসিস।

কিন্তু এই হাইপোথিসিসটা পরীক্ষা করা খুব কঠিন কিছু হওয়ার কথা নয়।

ঢাকার ব্যাটারি রিকশাগুলো কোথায় চার্জ হচ্ছে?
কতগুলো বৈধ চার্জিং স্টেশন আছে?
কত বিদ্যুৎ সেখানে ব্যবহার হচ্ছে?
আর কত বিদ্যুৎ মিটার বাইপাস করে বা অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে যাচ্ছে?

এই হিসাবটা কি আমরা জানি?

শুধু যানজট নয়, আরও বড় প্রশ্ন আছে

ব্যাটারি চালিত টেসলা রিকশা নিয়ে বিতর্ক আমরা সাধারণত যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলার দিক থেকে দেখি।

কিন্তু এর সঙ্গে যদি ব্যাপক আকারে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার যুক্ত থাকে, তাহলে বিষয়টা শুধু রাস্তার সমস্যা থাকে না—এটা বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমস্যাও হয়ে যায়।

এর প্রভাব যদি বিদ্যুৎ ঘাটতি বা সিস্টেম লস বাড়ায়, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—এর একটা অংশ কি শেষ পর্যন্ত সারা দেশের সাধারণ গ্রাহককে বহন করতে হচ্ছে?

অথচ আমরা দেখছি, এই রিকশাকে ঘিরে নানা ধরনের নীতির চিন্তা চলছে—নতুন ডিজাইনের রিকশা, রঙ পরিবর্তন, নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন উদ্যোগ, এমনকি রিকশা উৎপাদনের শিল্প গড়ে তোলার কথাও শোনা যাচ্ছে।

কিন্তু তার আগে কি আমাদের কয়েকটা মৌলিক প্রশ্নের উত্তর জানা দরকার নয়?

এই রিকশাগুলো আসলে কত বিদ্যুৎ খাচ্ছে?
কোথা থেকে সেই বিদ্যুৎ আসছে?
তার কতটুকুর বিল হচ্ছে?
আর অবৈধ ব্যবহারের ক্ষতিটা কে দিচ্ছে?

আর একটা বিষয় বলতেই হয়

যারা এই রিকশাগুলোকে শুধু “গরিব মানুষের আয়-রোজগারের বাহন” হিসেবে দেখেন এবং সহানুভূতির জায়গা থেকে সব ধরনের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করেন—তাদের প্রতি খুব বিনয়ের সঙ্গে একটা প্রশ্ন।

গরিব মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগ অবশ্যই থাকতে হবে।

কিন্তু সেই আয় যদি তৈরি হয় অন্যের বিদ্যুৎ চুরি করে, রাস্তার ওপর বিশৃঙ্খলা তৈরি করে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে এবং শেষ পর্যন্ত সেই খরচের একটা অংশ অন্য নাগরিকের পকেট থেকে আদায় করে—তাহলে সেটাকে শুধু “গরিবের জীবিকা” বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া কতটা ন্যায়সংগত?

আপনি যদি সত্যিই গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান, তাহলে তার জন্য বৈধ, নিরাপদ এবং টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা চান।

অন্যের মিটার ঘুরিয়ে গরিবের জীবিকা তৈরি করা আর গরিবের জন্য টেকসই জীবিকা তৈরি করা—দুটো কিন্তু এক জিনিস নয়।

আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো—যারা এই রিকশার পক্ষে সবচেয়ে জোরে সহানুভূতির কথা বলেন, তাদের অনেকেই হয়তো নিজের বাড়ির বিদ্যুৎ বিল হাতে পেলে সেই সহানুভূতির হিসাবটা একটু অন্যভাবে করবেন!

কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সহজ—

রিকশা চলবে, মানুষ আয় করবে—ঠিক আছে।
কিন্তু সেই আয়ের বিদ্যুৎ খরচটা কি অন্য একজন সাধারণ মানুষ তার পকেটের টাকা দিয়ে বহন করবে?

আমার প্রশ্ন রিকশার বিরুদ্ধে নয়।

আমার প্রশ্ন অবৈধতার বিরুদ্ধে।

গরিব মানুষের জীবিকা রক্ষা করতে হবে।
কিন্তু সেই দায়িত্বের বিল কি বৈধভাবে বিল দেওয়া নাগরিকের ঘাড়ে চাপানো যাবে?

যদি বিদ্যুৎ চুরি হয়, তার হিসাব চাই।
যদি রিকশা বৈধ হয়, তার চার্জিংও বৈধ হোক।
আর যদি কোনো ব্যবস্থার প্রকৃত খরচ থাকে—সেই খরচের প্রকৃত হিসাবটাও জনগণের সামনে আসুক।

কারণ শেষ পর্যন্ত—

বিদ্যুৎ কেউ না কেউ ব্যবহার করছে।
বিদ্যুতের দাম কেউ না কেউ দিচ্ছে।
প্রশ্ন হলো—দিচ্ছে কে?

স্থপতি নিলয়
১৭।৮।২৬

#বিদ্যুৎবিল #বিদ্যুৎচুরি #বিদ্যুৎসংকট #সিস্টেমলস #বাংলাদেশ #টেসলারিকশা #ঢাকারযানজট

আজকে একটা বিষয় নিয়ে সত্যিই কনফিউজড হয়ে যাচ্ছি—আমরা কি সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করছি, নাকি সমস্যাগুলোকে আরও বড় করে ত...
16/08/2026

আজকে একটা বিষয় নিয়ে সত্যিই কনফিউজড হয়ে যাচ্ছি—আমরা কি সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করছি, নাকি সমস্যাগুলোকে আরও বড় করে তুলছি?

বাংলাদেশের এনার্জি সেক্টরের বর্তমান অবস্থা খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। গ্যাসের সংকট, তেলের উচ্চমূল্য, বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ—অর্থনীতির যে মৌলিক অবকাঠামোগুলো ব্যবসা-বাণিজ্যকে দাঁড় করিয়ে রাখে, সেগুলোর প্রায় প্রতিটিতেই এখন নড়বড়ে অবস্থা।

আমি বুঝি, বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া অনেক দায়ভার নিয়েই দায়িত্বে এসেছে। সেগুলো সামাল দেওয়া সহজ নয়। কিন্তু অর্থনীতির একটা খুব সাধারণ নিয়ম আছে—আপনি যখন সংকটে থাকবেন, তখন প্রথম কাজ হলো সবচেয়ে জরুরি এবং সবচেয়ে সহজে সমাধানযোগ্য সমস্যাগুলো আগে সমাধান করা।

বিদ্যুৎ খাতের এমন একটি সমস্যা হচ্ছে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার ও বিদ্যুৎ চুরি।

এর একটা বড় উদাহরণ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা।

সারা ঢাকা শহর তো বটেই, সারা বাংলাদেশে হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে। এদের একটা বড় অংশ কোথায়, কীভাবে এবং কতটা বিদ্যুৎ খরচ করে চার্জ হচ্ছে—সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে। অনেক জায়গায় অবৈধ সংযোগে রিকশা চার্জ দেওয়ার অভিযোগও আছে।

এখানে সরকার একসঙ্গে দুই জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এক—রাজস্ব হারাচ্ছে।
দুই—চুরি হওয়া বিদ্যুতের চাপ গিয়ে পড়ছে বৈধ গ্রাহকের ওপর।

আজ সারাদিনে অসংখ্যবার বিদ্যুৎ চলে গেল। বাসায় গ্যাস নেই। ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা ভালো না। শিল্পকারখানা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে ভুগছে। এমন অবস্থায় যে বিদ্যুৎটা বৈধ গ্রাহক টাকা দিয়ে কিনছে, সেই বিদ্যুতের একটা অংশ যদি অবৈধভাবে অন্য কোথাও চলে যায়—তাহলে বিষয়টি শুধু বিদ্যুৎ চুরি নয়, এটা পুরো অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করে।

আরেকটা বিষয় একটু হিসাব করে দেখা দরকার।

ধানমন্ডি থেকে মতিঝিল ব্যাটারিচালিত রিকশায় গেলে অনেক সময় ১০০–১৩০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। অথচ ওই একই রুটের একটা বড় অংশ মেট্রোতে গেলে তার চেয়ে অনেক কম খরচে যাওয়া সম্ভব।

অর্থাৎ শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থায় আমরা এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করছি যেখানে একটি অত্যন্ত কম দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা, বিপুল পরিমাণ রাস্তার জায়গা এবং বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, অথচ তার অর্থনৈতিক মূল্য সংযোজন তুলনামূলকভাবে কম।

আর রিকশাচালকের আয়ের হিসাবটাও একবার দেখুন।

ন্যূনতম ৩০ টাকা ভাড়া ধরে, দিনে যদি ৭০–৮০টি ট্রিপও হয়, তাহলে একজন চালকের দৈনিক আয় ২,০০০–২,৫০০ টাকা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। মাসে সেটা ৬০–৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত যেতে পারে।

ফলে এই বাজারে একজন মানুষ কেন অন্য কাজ ছেড়ে ব্যাটারিচালিত রিকশার দিকে ছুটছে—সেটাও বোঝা যায়।

আমি এমন কথাও শুনেছি, হাজারীবাগে কেউ নাকি ৫ আগস্টের পর প্রায় দুই কোটি টাকা দিয়ে রিকশা কিনেছে এবং প্রতিদিন ১০–১১ লাখ টাকা পর্যন্ত ভাড়া তুলছে।

সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে এই নির্দিষ্ট সংখ্যাকে আমি তথ্য হিসেবে দাবি করছি না। কিন্তু যদি এই ব্যবসার আকার সত্যিই এত বড় হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্নটা আরও গুরুত্বপূর্ণ—

এই অর্থনীতিটা আমরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছি?

একদিকে শিল্পকারখানায় গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই। উদ্যোক্তারা উৎপাদন করতে পারছেন না। অন্যদিকে হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত যানবাহন তৈরি হচ্ছে, আমদানি হচ্ছে, চার্জ হচ্ছে, রাস্তায় নামছে এবং এর চার্জিংয়ের একটা অংশ যদি অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে হয়—তাহলে রাষ্ট্র কেন এটাকে নিয়ন্ত্রণ করবে না?

এখানে আমি রিকশাচালকের বিরুদ্ধে কথা বলছি না।

একজন মানুষ যেখানে জীবিকা খুঁজে পেয়েছে, সেখানে তাকে গালি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।

সমস্যা হচ্ছে নীতির।

সরকার চাইলে খুব সহজেই করতে পারে—

চার্জিং স্টেশনগুলোকে লাইসেন্সের আওতায় আনতে পারে।
মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে।
অবৈধ সংযোগ বন্ধ করতে পারে।
প্রতিটি রিকশার নিবন্ধন ও সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ করতে পারে।

এতে রিকশাচালকেরও ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। বরং একটি বৈধ, নিয়ন্ত্রিত এবং করযোগ্য ইকোসিস্টেম তৈরি হতে পারে।

কিন্তু রাষ্ট্র যদি কোনো গোষ্ঠীর চাপ বা রাজনৈতিক অস্বস্তির ভয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তাহলে শেষ পর্যন্ত তার খেসারত দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই।

আজ বিদ্যুৎ নেই।
গ্যাস নেই।
ব্যবসায় স্বস্তি নেই।
শিল্পে স্বস্তি নেই।
জীবনযাত্রার খরচ কমছে না।

এভাবে চলতে থাকলে মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

তাই প্রশ্নটা এখন সত্যিই খুব সাধারণ—

নীতিনির্ধারকরা কি সমস্যাগুলো দেখতে পাচ্ছেন না?

নাকি দেখেও রাজনৈতিক কারণে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না?

নাকি এমন কোনো অদৃশ্য হিসাব আছে, যা আমরা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছি না?

আমি জানি না।

শুধু মাঝে মাঝে মনে হয়—সরকার কি সত্যিই পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যার বোঝা সামলাতে গিয়ে বিপদে পড়ে গেছে, নাকি নিজেরাই কিছু সমস্যাকে এতদিন সমাধান না করে আরও বড় করে তুলছে?

দেশ চালানো কঠিন কাজ।
কিন্তু কিছু অঙ্ক খুব কঠিন নয়।

আগে অপচয় বন্ধ করুন।
আগে চুরি বন্ধ করুন।
আগে বিদ্যুৎ-গ্যাসের জরুরি সমস্যাগুলো সামলান।
তারপর বড় বড় সংস্কারের কথা বলুন।

কারণ অর্থনীতির ব্যাকবোন যদি নড়বড়ে হয়ে যায়, তাহলে কোনো সরকারই বেশিদিন শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।

স্থপতি নিলয়
১৬l৮l২৬

#বাংলাদেশ #বিদ্যুৎসংকট #গ্যাসসংকট #এনার্জিক্রাইসিস #বিদ্যুৎচুরি #ব্যাটারিচালিতরিকশা #রিকশা #জ্বালানিসংকট #অর্থনীতি #বাংলাদেশঅর্থনীতি #বিদ্যুৎ #গ্যাস #জনদুর্ভোগ #নীতিনির্ধারণ #পরিবহনব্যবস্থা

15/08/2026

ইতিহাস বদলানো যায় না, ইতিহাস বদলানোর চেষ্টাও করতে হয় না।

আজকের এই দিনে বাংলাদেশের স্থপতিকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় প্ল্যান পাস প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করেন।ত...
14/08/2026

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় প্ল্যান পাস প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করেন।
তাদের সুবিধার্থে এই ডকুমেন্টটি শেয়ার করা হলো, যাতে কোনো দালালের সাহায্য ছাড়াই কীভাবে প্ল্যান পাসের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায় তা ধাপে ধাপে সহজভাবে বোঝা যায়।
আশা করি ডকুমেন্টটি সাধারণ মানুষ, জমির মালিক এবং ভবন নির্মাণে আগ্রহীদের জন্য উপকারী হবে। সচেতন হোন, নিয়ম জানুন, এবং নিজের কাজ নিজেই সম্পন্ন করুন।
#স্থপতি #রাজউক #প্ল্যানপাস #ভবননির্মাণ #ইমারতনির্মাণবিধিমালা #বাংলাদেশ

সম্মানিত নীতিনির্ধারকবৃন্দ এবং বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (আইএবি)-এর মহামান্য অভিভাবকগণ,আপনাদের অসামান্য দূরদর্শিতার জন্...
12/08/2026

সম্মানিত নীতিনির্ধারকবৃন্দ এবং বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (আইএবি)-এর মহামান্য অভিভাবকগণ,

আপনাদের অসামান্য দূরদর্শিতার জন্য একজন সাধারণ স্থপতি হিসেবে কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনারা এমন এক চমৎকার ব্যবস্থা তৈরি করেছেন, যেখানে একজন স্থপতি জাতীয়ভাবে স্বীকৃত হওয়ার পরও দেশের ভেতরে প্রতিটি শহরে গিয়ে নতুন করে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করার সুযোগ পান। গণতন্ত্রে যেমন ভোট দিতে হয়, স্থপতিকে তেমনি কাজ করতে গেলে বারবার এনলিস্টমেন্ট দিতে হয়—এ এক অনন্য অংশগ্রহণমূলক পেশাগত সংস্কৃতি!

আইএবির সদস্য হতে সময় লাগে, টাকা লাগে, কাগজ লাগে, সাক্ষাৎকার লাগে, নিয়মিত চাঁদা লাগে। শুনলে মনে হয় রাষ্ট্র আমাকে বলছে—“আপনি এখন দেশের একজন স্বীকৃত স্থপতি।” কিন্তু রাজশাহীতে গেলে পৌরসভা বলে, “আবার পরিচয় দিন।” চট্টগ্রামে গেলে আরেকটা ফরম। ক্যান্টনমেন্টে গেলে আরেকটা তালিকা। কোনো কোনো পৌরসভায় গেলে মনে হয় স্থপতি নই, নতুন দোকানের ট্রেড লাইসেন্স করতে এসেছি।

তাহলে প্রশ্ন করি, আইএবির সদস্যপদ আসলে কী? জাতীয় পেশাগত লাইসেন্স, নাকি সুন্দর ফ্রেমে বাঁধিয়ে অফিসে টাঙানোর জন্য একটি স্মারকপত্র?

আইএবির কার্যক্রম অবশ্য প্রশংসনীয়। সেমিনার হয়, সিম্পোজিয়াম হয়, আন্তর্জাতিক বক্তা আসেন, টেকসই নগর, স্মার্ট সিটি, জলবায়ু সহনশীলতা—সবই আলোচিত হয়। শুধু মাঠে কাজ করা সদস্যদের সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্নটি আলোচিত হয় না: “একজন আইএবি সদস্য কেন সারা বাংলাদেশে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন না?” হয়তো প্রশ্নটি খুবই সাধারণ, তাই একাডেমিক গুরুত্ব পায় না।

ড্যাপের কারণে ঢাকায় কাজ কমেছে। বাইরে কাজের খোঁজ আসে। কিন্তু ক্লায়েন্টের সঙ্গে নকশা আলোচনা শেষ করে পৌরসভার টেবিলে গিয়ে বোঝা যায়, নকশার মানের চেয়ে স্থানীয় এনলিস্টমেন্টের মেয়াদ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তখন মনে হয় আমরা স্থপতি কম, কাগজপত্র পরিবহনকারী বেশি।

নীতিনির্ধারকদের কাছে বিনীত প্রস্তাব—যদি জাতীয় পেশাগত নিবন্ধনের কোনো মূল্য না থাকে, তাহলে স্পষ্ট করে ঘোষণা দিন: “বাংলাদেশে স্থপতি হিসেবে কাজ করতে চাইলে প্রতিটি প্রশাসনিক অঞ্চলে আলাদা করে আনুগত্য প্রমাণ করতে হবে।” অন্তত নতুন প্রজন্ম বিভ্রান্ত হবে না।

আর আইএবির কাছে একটি ছোট অনুরোধ—পরবর্তী আন্তর্জাতিক সেমিনারের একটি সেশন সাধারণ সদস্যদের জন্য রাখুন। শিরোনাম হতে পারে: “জাতীয় সদস্যপদ থাকা সত্ত্বেও কেন সদস্যরা প্রতিটি শহরে পুনর্জন্ম গ্রহণ করেন?”

বিশ্বাস করুন, এই সেশনে উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি হবে। কারণ ব্যথাটা একাডেমিক নয়, প্রতিদিনের। আর প্রতিদিনের ব্যথার জন্য এখনো কোনো সিম্পোজিয়াম হয়নি।

— স্থপতি হাসান শাহরিয়ার খান (নিলয়)

#স্থপতি
#বাংলাদেশ_স্থপতি_ইনস্টিটিউট














#নগরায়ণ
#পেশাগত_অধিকার
িকল্পনা
#বাংলাদেশ

নব্বই দশকে যারা কৈশোর পার করেছি, তাদের মধ্যে ব্যান্ডসংগীত শোনেনি—এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। আর ব্যান্ডের গান মানেই ছিল ...
08/08/2026

নব্বই দশকে যারা কৈশোর পার করেছি, তাদের মধ্যে ব্যান্ডসংগীত শোনেনি—এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। আর ব্যান্ডের গান মানেই ছিল কয়েকটি নাম এক কাতারে—আইয়ুব বাচ্চু, জেমস, হাসান…। আর্কের হাসান ছিলেন আমাদের সময়ের এক আবেগ, এক স্মৃতি, এক জীবন্ত কিংবদন্তি।

আমাদের বিনোদন ছিল ঈদের নতুন ক্যাসেট কেনা, ঈদের দিন ডেকসেটে গান বাজানো, বন্ধুদের সঙ্গে অ্যালবাম নিয়ে আলোচনা করা। সেই সময়ের গান শুধু গান ছিল না; ছিল আমাদের বড় হয়ে ওঠার অংশ।

আজকের ফেসবুক-ইউটিউব প্রজন্ম হয়তো হাসানের গুরুত্ব পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারবে না। কিন্তু বাংলাদেশের এই শিল্পীকে একটি কনসার্টে বোতল ছুড়ে অপমান করা হয়েছে—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই লজ্জা শুধু একজন শিল্পীর নয়; আমাদের পুরো প্রজন্মের।

হাসানকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। তবে আমার সন্তান একসময় ধানমন্ডির অরণী স্কুলে পড়ত। সম্ভবত হাসানের সন্তানও সেই স্কুলেই পড়ত। একদিন স্কুলের গেটের সামনে তাঁকে দেখে আমি সত্যিই আবেগাপ্লুত হয়ে গিয়েছিলাম। অত্যন্ত নম্র, প্রচারবিমুখ একজন মানুষ। কাছে গিয়ে সালাম দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তাঁর চোখে চোখ পড়তেই মনে হলো তিনি বুঝে ফেলেছেন আমি তাঁকে চিনেছি। শেষ পর্যন্ত বিরক্ত না করে দূরে সরে এসেছিলাম। খুব ইচ্ছে ছিল একটি সেলফি তুলি— অটোগ্রাফ নেওয়ার বয়স বহু আগেই পেরিয়ে গেছে। এক সময় আমাদের মতো লক্ষ কোটি ভক্তের প্রিয় শিল্পীর নিজ সিদ্ধান্তে নিভৃতে চলে যাওয়াকে সম্মান জানিয়ে সেদিন দূরে দাঁড়িয়ে থেকে চিনেও কাছে না গিয়ে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছিলাম।

আমাদের সময়ের এই তারকারা নীরবে, নিভৃতে সরে গেছেন। কিন্তু যখন কোনো অনুষ্ঠানে ডেকে এনে একজন লিভিং লেজেন্ডকে এভাবে অপমান করা হয়, তখন মনে হয় এই রাষ্ট্রটা দিন দিন অশিক্ষিত বর্বরতার এক আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। এই দেশে গুণী মানুষের মূল্য ক্রমশ কমে যাচ্ছে। হয়তো এ কারণেই অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষ এ দেশে থাকতে চান না; আর যারা থাকেন, তাদের নীরব থাকতে হয়, কারণ জনসমক্ষে এলেই অশিক্ষিতদের এহেন আচরণের শিকার হতে হয়।

আমি গভীরভাবে লজ্জিত, দুঃখিত এবং আশাহত। এই অপমানের তীব্র নিন্দা জানাই।

আরেকটি কথা নতুন প্রজন্মের জন্য। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন আইসিসি আসরে জয়ের পর দেশে ফিরেছিল, সংবর্ধনার সময় বিভিন্ন জায়গায় উচ্চস্বরে বাজছিল আর্কের জন্মভূমি অ্যালবামের “বাংলাদেশ” গানটি। হাসানের কণ্ঠে সেই “বাংলাদেশ” ধ্বনি আজও আমার হৃদয়ে অনুরণিত হয়।

শিল্পীকে সম্মান করা মানে কেবল একজন মানুষকে সম্মান করা নয়; নিজের সংস্কৃতি, স্মৃতি আর ইতিহাসকে সম্মান করা।

স্থপতি নিলয়
৮.৮.২৬

#বাংলা_ব্যান্ড #হাসান #আর্ক #৯০দশক #ক্যাসেট_যুগ #শিল্পীর_সম্মান #বাংলাদেশ #বাংলাদেশের_গর্ব

বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে বাজারে অনিশ্চয়তা, কাজের সংকট, তরুণদের হতাশা, মধ...
04/08/2026

বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে বাজারে অনিশ্চয়তা, কাজের সংকট, তরুণদের হতাশা, মধ্যবিত্তের চাপ আর সর্বত্র এক ধরনের সামাজিক ফ্রাস্ট্রেশন স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। মানুষ দিন শেষে রাজনীতি, দোষারোপ আর হতাশার গল্প শুনতে শুনতে ক্লান্ত। অথচ ইতিহাস বলে, সংকটের সময়েই সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়।

আমরা আজকাল বুলেট ট্রেন নিয়ে আলোচনা করি, ঢাকা–চট্টগ্রাম অতিদ্রুত যোগাযোগ নিয়ে স্বপ্ন দেখি। কিন্তু বাস্তব কথা হলো, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের যোগাযোগ বুলেট ট্রেনে আনার প্রয়োজনীয়তা এখনই সবচেয়ে জরুরি বিষয় নয়। তারও আগে জরুরি প্রশ্ন হলো—চট্টগ্রামকে আমরা কী কাজে লাগাতে চাই? যদি দেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোকে বিকেন্দ্রীকরণ করা যেত, তাহলে ঢাকার ওপর আজকের এই অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হতো না। এমনকি ঢাকাকে ঘিরে নতুন ড্যাপ নিয়ে যে এত টানাপোড়েন, তার অনেকটাই হয়তো প্রয়োজন পড়ত না।

চীনের শেনজেন একসময় ছিল ছোট্ট একটি মৎস্যগ্রাম। আজ সেটি বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি, উৎপাদন ও উদ্ভাবনের রাজধানী। এই পরিবর্তন কোনো জাদুতে হয়নি; হয়েছে স্পষ্ট অর্থনৈতিক লক্ষ্য, সাহসী নীতি পরিবর্তন, দ্রুত প্রশাসন, বন্দরভিত্তিক শিল্পায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে।

বাংলাদেশের জন্য সেই সম্ভাব্য অঞ্চল হলো চট্টগ্রাম–মীরসরাই–সীতাকুণ্ড করিডর। চট্টগ্রাম শুধু একটি শহর নয়; এটি একটি বন্দর নগরী। এই বন্দরকে ঘিরেই দেশের শিল্প, রপ্তানি, লজিস্টিকস ও প্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনীতির নতুন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। আজকের প্রশ্ন বুলেট ট্রেন নয়; আজকের প্রশ্ন—চট্টগ্রাম বন্দরের শক্তিকে আমরা অর্থনৈতিক মুক্তির ইঞ্জিনে রূপান্তর করতে পারব কি না।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, রাজনীতি থেকে চট্টগ্রামকে আলাদা রেখে যদি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অর্থনৈতিক প্রকল্প হিসেবে এই কাজটি করা যায়, তবে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের অর্থনৈতিক মুক্তি আনা সম্ভব। চট্টগ্রামকে দলীয় প্রতিযোগিতার মাঠ নয়, জাতীয় উৎপাদন ও বিনিয়োগের অঞ্চল হিসেবে দেখতে হবে।

কী কী পরিবর্তন জরুরি?

১. চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) ঘোষণা

* আলাদা বিনিয়োগ আইন
* দ্রুত অনুমোদন
* আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো

২. ১০–১৫ বছরের কর স্থিতিশীলতা

* শিল্প ও প্রযুক্তি বিনিয়োগে নিশ্চয়তা
* নীতির ঘনঘন পরিবর্তন বন্ধ

৩. এক জানালা ডিজিটাল অনুমোদন ব্যবস্থা

* ৩০ দিনের মধ্যে শিল্প অনুমোদন
* অনলাইন ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক

৪. মীরসরাইয়ে পরিকল্পিত শিল্পভূমি ব্যাংক

* দীর্ঘমেয়াদি লিজ
* শিল্পভিত্তিক জোনিং
* অনিয়ন্ত্রিত প্লট বিভাজন বন্ধ

৫. চট্টগ্রাম বন্দর ও বে টার্মিনালকে ২৪/৭ অটোমেটেড লজিস্টিক হাব করা

* দ্রুত কাস্টমস
* কম কন্টেইনার সময়
* আন্তর্জাতিক মানের পোর্ট অপারেশন

৬. ঢাকা–চট্টগ্রাম ডেডিকেটেড কার্গো করিডর

* দ্রুত মালামাল পরিবহন
* শিল্প উৎপাদনের খরচ কমানো

৭. নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস ও শিল্প পানি সরবরাহ

* ইউটিলিটি আগে, শিল্প পরে , প্রয়োজনে রুপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাথে চট্টগ্রাম কে যুক্ত করে দেয়া।

৮. টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কিল সিটি

* শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনবল তৈরি

৯. প্রযুক্তি ও হার্ডওয়্যার ইনোভেশন ক্লাস্টার

* ইলেকট্রনিক্স
* মেডিকেল ডিভাইস
* রোবোটিক্স
* এআই হার্ডওয়্যার

১০. পরিকল্পিত আবাসন ও গণপরিবহন

* শ্রমিক ও পেশাজীবীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন

১১. স্থানীয় সরকারের আর্থিক স্বায়ত্তশাসন

* জমির মূল্যবৃদ্ধির অংশ স্থানীয় অবকাঠামোয় বিনিয়োগ

১২. রপ্তানিমুখী শিল্পে বিশেষ প্রণোদনা

* উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী পণ্যে অতিরিক্ত সুবিধা

ভাবুন তো, যদি চট্টগ্রাম সত্যিকার অর্থে দক্ষিণ এশিয়ার উৎপাদন, লজিস্টিকস ও প্রযুক্তির কেন্দ্র হয়ে ওঠে, তাহলে ঢাকার ওপর চাপ কমবে, কর্মসংস্থান বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। আমরা প্রতিদিন হতাশার পোস্ট লিখছি; কিন্তু বাস্তব পরিবর্তন শুরু হয় উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে কথা বলা থেকে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির চাবিকাঠি হয়তো নতুন কোনো তত্ত্বে নয়; বরং সঠিক জায়গায় সঠিক নীতি প্রয়োগে। শেনজেন প্রমাণ করেছে, একটি অঞ্চল বদলালে একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলাতে পারে। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা এই বিষয়টা জানে না এটা আমার বিশ্বাস হয় না...

এখন প্রশ্ন হলো এদেশের ভাগ্য বদলের সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় আসবে কবে ?!

স্থপতি নিলয়
৪।৮।২৬

#চট্টগ্রাম #বাংলাদেশ #অর্থনীতি #চট্টগ্রাম_উন্নয়ন #শিল্পায়ন #বিকেন্দ্রীকরণ ADB Bangladesh

জাতীয় ফ্রাস্ট্রেশনএই লেখাটি কোনো রাজনৈতিক লেখা নয়।বর্তমান  বাস্তবতা নিয়ে আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ।রাত পোহালেই আবার ৫ই আগ...
02/08/2026

জাতীয় ফ্রাস্ট্রেশন

এই লেখাটি কোনো রাজনৈতিক লেখা নয়।বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ।

রাত পোহালেই আবার ৫ই আগস্ট। ২০২৪ সালের এই দিনে বাংলাদেশের একটি বড় অংশের মানুষ পথে নেমে এসেছিল। সেটি কেবল ছাত্রদের ডাকা কোটা আন্দোলনের বিজয়ের দিন ছিল না; সাধারণ মানুষের কাছে সেটি ছিল শাসনব্যবস্থার প্রতি জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ।

বিগত রাজনৈতিক সরকারের দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন, বড় বড় মেগা প্রজেক্ট, হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ—সবকিছুর পরও মানুষের ভেতরে এক ধরনের অশান্তি ছিল। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরকারের কর্মকাণ্ডের এক ধরনের বিচ্ছিন্নতা মানুষ অনুভব করেছিল। ফলে এত এত উন্নয়নের চেয়ে , উন্নয়নের আড়ালে থাকা দুর্নীতিই বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

দুর্নীতি এ দেশে নতুন কিছু নয়। স্বাধীনতার পর থেকেই নানা রূপে এটি ছিল। কিন্তু যখন দুর্নীতির প্রভাব মানুষের ভাতের থালায় গিয়ে লাগে, তখনই মানুষ রাস্তায় নামে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সামাজিক বৈষম্য, ধনী-গরিবের ব্যবধান, ক্ষমতাবানদের বিলাসী জীবন—সব মিলিয়ে মানুষের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়েছিল সেই ২৪ এর আগস্টে।

এরপর দুই বছর কেটে গেছে। আবার নতুন আগস্ট আসছে। সরকার বদলেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কতটা এসেছে? সবজির দাম সেই আগের মত সেঞ্চুরি পার করেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির, সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের দীর্ঘশ্বাস বেড়েছে, এর সাথে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ আছে—সব মিলিয়ে পুরোনো সমস্যাগুলোই আবার ফিরে এসেছে।

আমি বলছি না যে নতুন সরকার আগের মতোই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে গেছে; হয়তো তা হয়নি, হয়তো আমাদের চোখে পড়েনি। কিন্তু সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কষ্ট যদি একই থাকে, তাহলে হতাশাও একই থাকে। এ কারণেই মানুষ অনেক সময় বলে, “আগে ভালো ছিলাম।” বাস্তবে হয়তো আগেও ভালো ছিল না; বর্তমানের দুরবস্থাই অতীতকে তুলনার মানদণ্ড বানিয়ে দেয়।

আমার দৃষ্টিতে বর্তমান অবস্থাটা আগের চাইতেও বেশি ভয়ংকর , কারণ আগেরবার সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের মনে হয়েছিল বিগত রাজনৈতিক সরকারের যে দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেম সেটা না ভাঙলে আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে না । কিন্তু এখন কি পরিবর্তন আনবেন ?! কাকে বদলিয়ে কাকে বসাবেন ?! কে আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করবে !!??

দিন শেষে প্রশ্ন জাগে—তার মানে আমাদের ভাগ্যের কি কোনো পরিবর্তন হবে না? একটি জাতি যদি দীর্ঘদিন ধরে হতাশা, অনিশ্চয়তা আর অবিশ্বাসের মধ্যে বেঁচে থাকে, তাহলে একসময় সে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

বাংলাদেশ সম্পদহীন দেশ নয়। আমাদের মানুষের মেধারও অভাব নেই। তাহলে এত সম্ভাবনার পরও কেন এই অবস্থা? সম্পদ আছে, অর্থ আছে, জ্ঞান আছে—তবু যদি চরিত্রগত দুর্বলতা, দুর্নীতি, দলীয় স্বার্থ আর রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে একটি জাতি ক্রমাগত হতাশায় ডুবে থাকে, তবে সেটি কেবল অর্থনীতির সংকট নয়, সামাজিক সংকটও।

মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস উঠেছে। উচ্চবিত্তের বড় অংশ অর্থ নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছে। নিম্নবিত্ত মানুষ কাজ না পেলে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। একটি সমাজ কতদিন এভাবে টিকে থাকতে পারে? এই দেশের ভবিষ্যৎ কী?

খুব ফ্রাস্ট্রেটেড লাগে। গত চৌদ্দ-পনেরো দিন ধরে আমি যে এলাকায় থাকি সেখানে রান্নার গ্যাস নেই। অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের চাপ আছে। এর ভেতর আবার গ্যাসের দাম বাড়ানোর খবর শুনছি!!

সব মিলিয়ে কোথাও স্বস্তি নেই। আজকাল কেমন যেন গুমোট লাগে। খুব হতাশা লাগে।

মাঝেমধ্যে নিজেকে হ্যামস্টারের মতো মনে হয়—হ্যামস্টারের ইদুরের মত একটা ছোট প্রাণী, যার খাঁচার ভেতরে একটা চাকা থাকে, যেটাকে হ্যামস্টার হুইল বলে। সে সারাদিন সেই চাকার ওপর দৌড়ায়। একই জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে তার জীবন শেষ হয়ে যায়।

আজকাল মনে হয়, আমরাও যেন সেই হ্যামস্টারের মতোই একটা চক্রে আটকে আছি—দৌড়াচ্ছি আর দৌড়াচ্ছি ,কিন্তু কোথাও পৌঁছাচ্ছি না।

স্থপতি নিলয়
২।৮।২৬

অনেকেই আমাকে বলেন, “আপনি তো স্থপতি, স্থাপত্য নিয়েই থাকুন। রাজনীতি নিয়ে লিখবেন না, বিতর্ক হবে।” কথাটা শুনতে ভালো লাগে, কা...
30/07/2026

অনেকেই আমাকে বলেন, “আপনি তো স্থপতি, স্থাপত্য নিয়েই থাকুন। রাজনীতি নিয়ে লিখবেন না, বিতর্ক হবে।” কথাটা শুনতে ভালো লাগে, কারণ তারা আমার স্থাপত্য বিষয়ক কনটেন্ট ভালোবাসেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশে স্থাপত্যকে রাজনীতি থেকে আলাদা করে দেখা প্রায় অসম্ভব।

আমি পেশাগত জীবনে দেখেছি, দেশের মাস্টারপ্ল্যান, মেগা প্রজেক্ট, নগর উন্নয়ন—এসবের বড় বড় সিদ্ধান্ত অনেক সময় মানুষের প্রয়োজনের চেয়ে রাজনৈতিক সুবিধা ও ক্ষমতার হিসাবকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া হয়। শুধু স্থাপত্য নয়; মেডিকেল, শিক্ষা, প্রকৌশল—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নীতিনির্ধারণে রাজনীতির গভীর প্রভাব আছে।

কঠিন সত্য হলো, আমাদের দেশে মেধা অনেক সময় একমাত্র যোগ্যতা নয়। ক্ষমতাবানদের কাছাকাছি থাকার সুযোগ, রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক, ‘জি হুজুরি’—এসবও পেশাগত অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। সরকারি বড় প্রজেক্ট, গুরুত্বপূর্ণ পদ, এমনকি স্বীকৃতি ও পুরস্কারের ক্ষেত্রেও এই বাস্তবতা অস্বীকার করা কঠিন।

আমি রাজনীতির বিরুদ্ধে নই। রাজনীতি প্রতিটি দেশেই আছে। সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন রাজনীতি জনসেবার পরিবর্তে দ্রুত অর্থ ও ক্ষমতা অর্জনের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়। তখন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়, পেশাজীবীরা নিরুৎসাহিত হন, আর সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

গত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি—ক্ষমতার খুব কাছাকাছি থাকা কিছু মানুষ অস্বাভাবিক দ্রুত সম্পদশালী হয়ে উঠেছে। এসব ঘটনা মানুষকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করে: যদি একজন সহকারীর অবস্থাই এমন হয়, তাহলে ক্ষমতার কেন্দ্র কতটা শক্তিশালী?

এদিকে বাস্তব অর্থনীতি অন্য কথা বলছে। সরকারি বিনিয়োগ কমছে, নতুন প্রকল্প স্থবির, ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ দুর্বল, চাকরি হারাচ্ছেন অনেক মানুষ, দ্রব্যমূল্য বাড়ছেই। অথচ রাজনৈতিক আলোচনার বড় অংশ ঘুরপাক খায় দল, প্রতিপক্ষ ও ক্ষমতার কৌশল নিয়ে; সাধারণ মানুষের জীবনযুদ্ধ খুব কমই কেন্দ্রস্থলে আসে।

আমরা প্রায়ই সিঙ্গাপুরের উদাহরণ দিই। সেখানে রাজনীতি নেই—এমন নয়। কিন্তু নাগরিকের আয়, কাজ, ব্যবসা ও জীবনের স্থিতিশীলতা রাজনীতির কারণে প্রতিনিয়ত বিপন্ন হয় না। ফলে মানুষ রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত উন্নয়ন, দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতায় বেশি মন দেয়।

বাঙালির মেধার অভাব নেই। অভাব হলো এমন একটি পরিবেশের, যেখানে মেধা রাজনৈতিক আনুগত্যের চেয়ে বেশি মূল্য পাবে। একজন স্থপতি হিসেবে শহর, অবকাঠামো ও উন্নয়নের ভেতর দিয়ে আমি প্রতিদিন এই বাস্তবতার ছাপ দেখি। তাই রাজনীতি নিয়ে লিখি বিতর্কের জন্য নয়; পেশাগত অভিজ্ঞতা থেকে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের জায়গা থেকে।

তিতা কথা সবসময় সুখকর নয়। কিন্তু অনেক সময় তিতাই সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ।

স্থপতি নিলয়
৩০।৭।২৬

#স্থপতির_কথা #রাজনীতি #উন্নয়ন #স্থাপত্য #বাংলাদেশ
#মেধা_ও_রাজনীতি

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ar.Niloy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Ar.Niloy:

Shortcuts

Share