Arch.heritage ltd.

Arch.heritage ltd. ARCH. HERITAGE LTD. PROVIDES CONSULTANCY SERVICES FOR PLANNING, BUILDING DESIGN AND INTERIOR DESIGN----

28/10/2026
26/10/2026

# হেমন্তের আকাশে পুর্নিমার চাঁদ

25/10/2026

# ছুটির দেশ বাংলাদেশ :

কারণে-অকারণে যদি কোনো দেশে সরকারি ছুটি হয়, সেই দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। এখানে সরকারের তরফ থেকে কাজের চেয়ে অকাজই যেন বেশি হয়। সারা বছরজুড়ে দেখবেন, খালি সরকারি ছুটি। কারও জন্মদিন, কারও মৃত্যুদিন, বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব—সব মিলিয়ে ছুটির যেন শেষ নেই। এর বাইরেও বিভিন্ন অজুহাতে নানা ধরনের ছুটির ব্যবস্থা করেন সরকারি আমলারা। মনে হয়, কাজের চেয়ে ছুটি কাটানোর প্রতিই তাঁদের আগ্রহ বেশি।
সরকারি কর্মচারীদের সপ্তাহে দুদিন ছুটি দেওয়া হয় কেন, তা বুঝতে পারি না। তার ওপর বর্তমানে কর্মঘণ্টাও এক ঘণ্টা কমানো হয়েছে। অজুহাত ছিল বিদ্যুৎ-সংকট। এখন তো বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো। তাহলে কর্মঘণ্টা আবার বাড়ানো হচ্ছে না কেন? একদিকে কাজের সময় এক ঘণ্টা কমানো হলো, অন্যদিকে বেতন কমানোর পরিবর্তে উল্টো বেতন দ্বিগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের পিঠ চাপড়ে দিতে ইচ্ছে করছে!

নীচে বিভিন্ন দেশের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবের ছুটির পরিমান দেয়া হলো :

দেশ মুসলিম জনসংখ্যা% ছুটি
যুক্তরাষ্ট্র ১.১% নাই
যুক্তরাজ্য ৬.৫% নাই
শ্রীলংকা ১০.৫% ১ দিন
নেপাল ৬.৫% ১+১দিন
ভুটান ১% নাই
চীন ১.৫% নাই
ভারত ১৫.৫% ১+১দিন
থাইল্যান্ড ৫% ১+১দিন

তবে থাইল্যান্ডে এই ছুটি পুরো থাইল্যান্ডের জন্য প্রযোজ্য নয়। শুধু মুসলিম প্রধান অঞ্চলের জন্য।

এখন দেখা যাক বাংলাদেশের অবস্থা কি?
এবার দেখা যাক বাংলাদেশের অবস্থা
বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জনসংখ্যার অনুপাত এবং তাদের ধর্মীয় উৎসবের ছুটির চিত্র নিচে দেওয়া হলো :

ধর্মীয় সম্প্রদায় সংখ্যা % ছুটি
হিন্দু ১৫.৫% ২ দিন
বৌদ্ধ .৬১% ১ দিন
খ্রিস্টান .৩০% ১ দিন

লক্ষ্য করুন, ২ শতাংশ বা তার চেয়ে কম জনসংখ্যার ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য অনেক দেশে জাতীয় পর্যায়ে আলাদা ধর্মীয় ছুটি নেই। ভারতে প্রায় ১৫–১৬ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যার জন্য ঈদ উপলক্ষে ছুটির সংখ্যা সীমিত। এসব দেশের ছুটির নীতির পেছনে একটি যুক্তি কাজ করে—একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উৎসব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক কর্মজীবনও সচল রাখা।
অল্পসংখ্যক মানুষের ধর্মীয় উৎসবের জন্য পুরো দেশের কাজকর্ম বন্ধ রাখা কতটা যুক্তিসংগত, তা ভেবে দেখা দরকার। তবে ধর্মীয় উৎসব পালনের অধিকার অবশ্যই সবার থাকা উচিত।

কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাপারটাই আলাদা। এখানে ছুটি যেন খুব জনপ্রিয় একটি বিষয়। আমাদের কর্মসংস্কৃতিতে কাজের প্রতি অনীহা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ আছে। বিশেষ করে সরকারি কর্মচারীদের একটি অংশের কর্মদক্ষতা, দায়িত্ববোধ ও কর্মঘণ্টার যথাযথ ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনও মনে হয়, অনেকের কাছে অফিসে যাওয়ার প্রধান কারণ কাজের দায়িত্ব পালন নয়, বরং অন্য কোনো সুবিধা পাওয়া। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।
২০২৫ সালের আগে পূজার সরকারি ছুটি ছিল এক দিন। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হঠাৎ করেই সেই ছুটি বাড়িয়ে দুই দিন করা হয়। একই সময়ে ছুটির দিনগুলোকে জুড়ে দিয়ে দীর্ঘ ছুটি তৈরির একটি প্রবণতা আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

যেমন, শনিবার সরকারি কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটি। সেই শনিবারের পরিবর্তে বৃহস্পতিবার অফিস বন্ধ রেখে ছুটি দেওয়া হলো। ফলে মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত দীর্ঘ বিরতি তৈরি হলো। এর ফলে ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজকর্মে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিঘ্ন ঘটতে পারে।

মাত্র ৬–৭ শতাংশ মানুষের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সারা দেশের কাজকর্ম টানা কয়েক দিন বন্ধ রাখা কতটা যুক্তিসংগত, তা ভেবে দেখা দরকার। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে অবশ্যই ছুটি থাকা উচিত। কিন্তু সেই ছুটি কি সবার জন্য প্রযোজ্য না করে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য নির্দিষ্ট করা যায় না? এতে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব পালনের সুযোগও থাকবে, আবার দেশের সামগ্রিক কর্মজীবনও সচল রাখা সম্ভব হবে।

আমার সন্দেহ, দীর্ঘ ছুটির এই ব্যবস্থা কেবল ধর্মীয় সম্প্রদায়কে খুশি করার বিষয় নয়; এর পেছনে সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত সুবিধার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছেলেমেয়ে বিদেশে থাকে, সেখানে পড়াশোনা করে। অনেকে আবার বিদেশেই স্হায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করেছে। দীর্ঘ ছুটি তাঁদের বিদেশ সফর ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ করে দেয়। অবশ্য এই ধারণার পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া একে সবার ক্ষেত্রে সত্য বলে দাবি করা যায় না। তবে সরকারি ছুটির নীতি নির্ধারণে ব্যক্তিগত সুবিধার পরিবর্তে জনস্বার্থই যে প্রাধান্য পাওয়া উচিত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
এইভাবে ছুটি দীর্ঘ করার প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, যেসব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা ১ শতাংশেরও কম, তাদের ধর্মীয় উৎসবের জন্য ছুটি শুধু সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য নির্ধারণ করা কি অধিক যুক্তিসংগত নয়?

সারা বছর অন্যান্য দেশে কত দিন সরকারি ছুটি থাকে?
নিচে বিভিন্ন দেশের বাৎসরিক সরকারি ছুটির একটি তুলনামূলক তালিকা দেওয়া হলো।

দেশ ছুটি
যুক্তরাষ্ট্র ১১ দিন
যুক্তরাজ্যে ৮ দিন
চীন ১৩ দিন
জাপান ১৬ দিন
পাকিস্তান ১২ থেকে ১৬ দিন
তুরস্ক ১৫ দিন
থাইল্যান্ড ১৯ দিন
সিঙ্গাপুর ১১ দিন
ভুটান ১৬ থেকে ২১ দিন
ভারত ১৭/১৮ দিন
নেপাল ৩৫ দিন (সারা বিশ্বে সর্বোচ্চ)

তালিকা অনুযায়ী, নেপালে সরকারি ছুটির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে বিভিন্ন দেশে ছুটির হিসাব করার পদ্ধতি এক নয়। কোথাও জাতীয় ছুটি, কোথাও আঞ্চলিক ছুটি, আবার কোথাও ঐচ্ছিক ছুটি আলাদাভাবে গণনা করা হয়। তাই সঠিক তুলনার জন্য একই ধরনের ছুটি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
এবার বাংলাদেশের হিসাব
বাংলাদেশে সারা বছরে সরকারি ছুটির সংখ্যা ২৮ দিন বলে উল্লেখ করা হয়। এর বাইরে ঐচ্ছিক ছুটির ব্যবস্থাও রয়েছে। তোমার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রদায়ের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির সংখ্যা নিম্নরূপ:

সম্প্রদায় ঐচ্ছিক ছুটি
মুসলিম ৫ দিন
হিন্দু ৯ দিন
খ্রিস্টান ৮ দিন
বৌদ্ধ ৭ দিন
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ২ দিন

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ঐচ্ছিক ছুটি আর সবার জন্য প্রযোজ্য সাধারণ সরকারি ছুটি এক বিষয় নয়। ঐচ্ছিক ছুটি সাধারণত সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ধর্মীয় বা অন্যান্য বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়।

সপ্তাহে দুদিন ছুটির সুবিধাও রয়েছে। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সরকারি কর্মচারীরা এই সুবিধা ভোগ করেন। সে হিসাবে বছরে সাপ্তাহিক ছুটির সংখ্যা প্রায় ১০৪ দিন। কোনো কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে এক দিন ছুটি থাকায় সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় তাঁরা বছরে প্রায় ৪৮ দিন কম সাপ্তাহিক ছুটি পান। এর বাইরে বিভিন্ন কারণে বিশেষ ছুটিও ঘোষণা করা হয়।
ফলে সরকারি কর্মচারীদের মোট কর্মদিবস ও কর্মঘণ্টার হিসাবটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা দরকার। শুধু ছুটির সংখ্যা নয়, প্রকৃত কাজের পরিমাণ, কর্মদক্ষতা এবং জনগণকে দেওয়া সেবার মানও বিবেচনায় নিতে হবে।
কথায় কথায় ছুটি, কিন্তু কাজের হিসাব কোথায়?

পরিশেষে বলা যায়, কথায় কথায় সরকারি ছুটি দেওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা বলে আমার মনে হয়। এর পেছনে সরকারের নীতিনির্ধারণী দুর্বলতা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে সরকারি কর্মচারীদের একটি অংশের দায়িত্বহীনতা, কাজের প্রতি অনিহা, কাজের চেয়ে জনসংখ্যা বেশী হওয়া ও জবাবদিহিতার অভাব।

দেশের মানুষের করের টাকায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। তাঁদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে সেবা দেওয়া এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। অথচ যখন কাজের চেয়ে ছুটির প্রতি আগ্রহ বেশি দেখা যায়, তখন প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক—দেশের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা কতটা?

দেশ থেকে অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের ঘটনাও আমাদের সামনে রয়েছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি কর্মচারীদের সবাইকে এক কাতারে ফেলা ঠিক হবে না, তবে যাঁরা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন কিংবা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে।

আমাদের ভাবতে হবে, দেশের জন্য কোনটি বেশি প্রয়োজন—আরও ছুটি, নাকি আরও কার্যকর কর্মসংস্কৃতি?
দেখুন, ভারতসহ অনেক দেশে সপ্তাহে এক দিন সাপ্তাহিক ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে। আবার বিভিন্ন দেশের বাৎসরিক সরকারি ছুটির সংখ্যাও বাংলাদেশের চেয়ে কম। এর পেছনে কর্মঘণ্টার মূল্য, উৎপাদনশীলতা এবং জনসেবা সচল রাখার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদেরও এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।

সরকারের কাছে কয়েকটি প্রস্তাব
প্রথমত, সাপ্তাহিক ছুটি পুনর্বিবেচনা করা।
আমাদের দেশে কাজের পরিমাণ, সরকারি সেবার চাহিদা এবং কর্মদক্ষতার বিষয়গুলো বিবেচনা করে সপ্তাহে দুদিনের পরিবর্তে এক দিন সাপ্তাহিক ছুটির ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কর্মীদের স্বাস্থ্য, কাজের চাপ, উৎপাদনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমানের বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বাৎসরিক সরকারি ছুটির সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসা।
বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসবের ছুটির ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের নীতি পর্যালোচনা করা যেতে পারে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবের ছুটি সবার জন্য সাধারণ ছুটি হিসেবে না দিয়ে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা উচিত। প্রয়োজনে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য ঐচ্ছিক ছুটি বাড়ানো যেতে পারে। এতে ধর্মীয় স্বাধীনতাও বজায় থাকবে, আবার দেশের সামগ্রিক কর্মজীবনও সচল থাকবে।

এ প্রসঙ্গে ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই বহুল প্রচলিত স্লোগানটি নিয়েও আমার কিছু প্রশ্ন রয়েছে। জানি না, এই ধারণাটি কীভাবে এত ব্যাপকভাবে প্রচলিত হলো। ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধর্মের বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের সম্পর্ক রয়েছে। তাই সবাইকে একইভাবে প্রতিটি ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিতে হবে, এমন ধারণা কতটা যুক্তিসংগত?

আমাদের দেশে হিন্দু ও মুসলিম—এই দুই সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। হিন্দু ধর্মের অনেক উৎসবে প্রতিমাপূজা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্যদিকে, ইসলাম ধর্মে প্রতিমাপূজা নিষিদ্ধ। তাহলে একজন মুসলমান কীভাবে অন্য ধর্মের এমন একটি ধর্মীয় আচারকে নিজের উৎসব হিসেবে গ্রহণ করবেন? অবশ্য অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আলাদা বিষয়।

আবার মুসলমানদের কোরবানির ঈদের কথাই ধরুন। এ উপলক্ষে ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা পশু কোরবানি করেন, যার মধ্যে বাংলাদেশে গরু কোরবানি প্রচলিত। অন্যদিকে, হিন্দু ধর্মের অনেক অনুসারীর কাছে গরু পবিত্র এবং তাকে দেবি মানা হয়। তাদের পক্ষে কিভাবে এই উৎসবে যোগ দেয়া সম্ভব? ফলে একই ধর্মীয় আচারকে সবাই একইভাবে উদ্‌যাপন করবেন, এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
তাহলে ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ স্লোগানটি কি সব ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য? আমার মনে হয়, এ বিষয়ে আরও বাস্তবসম্মত ও সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের উৎসবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন, একে অন্যের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশ্বাসকে সম্মান করবেন—এটাই হওয়া উচিত মূল কথা।

আমার প্রস্তাব হচ্ছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য আগের মতো এক দিন রাষ্ট্রীয় সাধারণ ছুটি রেখে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য প্রয়োজনে অতিরিক্ত ঐচ্ছিক ছুটির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একই নীতি অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে তাঁদের ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ণ না করেই সারা দেশের কাজকর্ম সচল রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

তৃতীয়ত, মন্ত্রী ও আমলাদের কর্মঘণ্টা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মঘণ্টা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কাজের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে সেই ভাতা যেন প্রকৃত কাজ না করেই নেওয়া না যায়, সে জন্য কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকতে হবে।

শুধু কর্মঘণ্টা বাড়ালেই হবে না; সেই সময়ে কতটা কাজ হচ্ছে, জনগণ কতটা সেবা পাচ্ছে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা কতটা বাড়ছে, তারও মূল্যায়ন করতে হবে।

সবশেষে বলতে চাই, একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা বাজেটের আকার দিয়ে বিচার করা যায় না। দেশের মানুষের কর্মসংস্কৃতি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা এবং জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।

সরকারি ছুটি মানুষের ন্যায্য অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই ছুটি কমানোর প্রশ্নটি বিবেচনা করতে হবে যুক্তি, বাস্তবতা ও জনস্বার্থের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে এটাও নিশ্চিত করতে হবে, ছুটি যেন কাজ এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতিতে পরিণত না হয়।

আমরা চাই, সরকারি কর্মচারীরা যথাযথ ছুটি ভোগ করবেন, তাঁদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত অধিকার বজায় থাকবে; পাশাপাশি তাঁরা দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করবেন। কারণ, সরকারি চাকরি শুধু বেতন ও ছুটি ভোগের বিষয় নয়; এটি জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনেরও অঙ্গীকার।

19/10/2026

# ঢাকার ফুটপাথের নতুন অতিথি?

নীচে একটা ভিডিও পোস্ট করলাম। ভিডিওটিতে কয়েকজন মানুষ ফুটপাথে শুয়ে আছে। বেশ কিছুদিন ধরে এই ফুটপাথ দিয়ে আমি প্রায়ই যাওয়া আসা করি রাত্রি বেলা। কখনও কাউকে এভাবে শুয়ে থাকতে দেখিনি। দিন কয়েক আগে হঠাৎ দেখলাম একজন শুয়ে আছে খালি গায়ে ফুটপাথের রেলিং ঘেষে। কোন কাঁথা, চাদর, বালিশ কিছু নাই। পাগল ভেবে চলে গেলাম। পর দিন আবার একই জায়গায় শুয়ে থাকতে দেখলাম। এরপর কয়েদিন ওখান দিয়ে যাওয়া হয় নাই। তারপর যখন গেলাম সংখ্যাটা বেড়ে তিন জন হয়েছে। এবার আর ওদের পাগল মনে হলোনা। তার কয়েদিন পর যখন ঐপথ দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন এই দৃশ্য চোখে পড়লো। এবার ফুটপাথের বেশ বড় অংশ জুড়ে অনেকজনকে দেখলাম। শুয়ে আছে এলোপাথাড়ি। এবার ভাবনাটা মাথায় এলো। হচ্ছে টা কি? আমি নিয়মিত ধানমন্ডি লেকে হাঁটি। সেখানে আগে দু একজন ভবঘুরে এবং ভিক্ষুক দেখতাম শুয়ে আছে। তাকওয়া মসজিদ থেকে বত্রিশ নম্বর ব্রীজের দিকে লেকের পাশ ঘেঁষে যে ফুটপাথ গেছে সেখানে এবং ব্রীজের উপরও কিছু ভিক্ষুক থাকে। সেটা মসজিদের কারনে, সেটা বুঝি। ওখানেও কিছুদিন তাদের দেখি নাই। হঠাৎ করেই সেখানেও তাদের উপস্থিতি বেড়ে গেছে। লেকের মধ্যেও অনেক ভবঘুরে এবং ভিক্ষুক বেড়ে গেছে। তবে এদের ভিক্ষুক মনে হলো না। এরা তবে কারা? উল্টো দিকে থানা। পাশ ঘেঁষে শারীরিক শিক্ষা কলেজ। এখানে কিভাবে এরা এলোপাথাড়ি শুয়ে থাকে? এরা কি কর্মহীন বেকার? ভিক্ষুক? ছিনতাইকারী? নাকি ফুটপাথ দখলকারী। কিছুদিন পর স্হায়ী হবে। এই ফুটপাথে আগে দু একটি চায়ের দোকান ছিল? এখন সংখ্যা বাড়ছে। এই দোকান গুলো আবার বেপরোয়া। উপরে ছাউনি দিয়েছে এবং চওড়া ফুটপাথের বেশ বড় অংশ দখল করে রেখেছে। পাশ দিয়ে যাওয়া করা দুষ্কর। বেশ রাত পর্যন্ত এগুলো খোলা থাকে। উল্টো দিকে থানা। কিন্তু তারা সম্ভবত দেখেও দেখেনা। থানার সামনে কিভাবে এভাবে ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা করে? এখন নতুন উপদ্রব এরা। এই ফুটপাথ আগে ব্যবহার করা যেত। ভবিষ্যতে সম্ভবত রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হবে অন্য জায়গার মত। জানি কোন লাভ নাই, তারপরও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে এবিষয়ে দৃষ্টি দেয়ার অনুরোধ রইলো। আশা করবো এদের জন্য একটা নির্দিষ্ট স্হান করে তাদেয কর্ম সংস্হান করা হবে। সবচেয়ে বড় কথা এভাবে যদি সবাই সব কিছু ছেড়ে ঢাকা মুখি হয় তবে অদুর ভবিষ্যতে ঢাকার রাস্তা, ফুটপাথ ওভাব্রীজ, পার্ক মাঠ সব খোলা জায়গা ভরে যাবে। কোথাও তিল ধারনের জায়গা থাকবেনা। রাজউকের নব্য আবিষ্কার ড্যাপ কি কোন কাজে আসবে? ড্যাপের মহান স্রষ্টারা কি এব্যপারে কিছু ভেবেছে? নগর শুধু কতটুকু জায়গা ঘিরে বিল্ডিং হবে, বা বিভিন্ন প্লটবানিজ্যের ব্যপার না। বড় ছোট সবাইকে নিয়ে ভাবতে হবে। নগরকে নিয়ে ভাবতে হবে। হাজারো সমস্যায় ভুগছে ঢাকা নগর। বিদ্যুৎ,পানির অভাব, রাস্তার উপর ঝুলোন্ত তার। অপরিকল্পিত ওভাব্রীজ, স্হাপনা, যেখানে সেখানে আবর্জনার স্তুপ, নোংরা হকার কবলিত ফুটপাথ, এলোমেলো রাস্তা ভরে আছে ব্যটারী রিক্সা, ভাঙ্গা চুড়া বাস, তার চেয়েও যঘন্য তাদের সার্ভিস। ফুটপাথ দিয়ে চলা অসভ্য বাইক, দুর্নীতি গ্রস্হ অথর্ব সরকারি সংস্হা, সেবা বঞ্চিত নাগরিক। এই নিয়ে ঢাকা। কিভাবে এটা ঠিক করা যায় সেটা ভাবুন। এলোমেলো সিদ্ধান্ত, চুরি চামারির ধান্দা করা রাজউক আর সিটি কর্পোরেশন এগুলো দিয়ে কি এই শহরকে ঠিক করা যাবে?

 # দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও সরকারি সংস্থা :নীচে মূল রাস্তার পাশে জমে থাকা আবর্জনার একটি স্তূপের ছবি দেওয়া হলো। এ ধরনের স...
16/10/2026

# দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও সরকারি সংস্থা :

নীচে মূল রাস্তার পাশে জমে থাকা আবর্জনার একটি স্তূপের ছবি দেওয়া হলো। এ ধরনের স্তূপ আরও অনেক জায়গায় দেখা যায়। এটি তারই একটি উদাহরণ।

বেশ কিছুদিন আগে (সঠিক সময়টা মনে নেই বলে উল্লেখ করতে পারছি না) এই আবর্জনা নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। অথচ এখানে আগে কোনো আবর্জনাই ছিল না। একদিন হঠাৎ করেই অল্প পরিমাণ আবর্জনা দেখা গেল। এরপর ধীরে ধীরে তার পরিমাণ বাড়তে থাকল। একসময় জায়গাটি ঠিক ছবির মতো হয়ে গেল।

এটাই আমাদের বাস্তবতা। এটাই আমাদের সরকারি সংস্থাগুলোর অবদান, বিশেষ করে আমাদের মহান সিটি কর্পোরেশনের!

একসময় সিটি কর্পোরেশন নিজ দায়িত্বেই এই আবর্জনা পরিষ্কার করত। কিন্তু ধীরে ধীরে তাদের এই সেবার মান খারাপ হতে থাকল। দুর্নীতির বিস্তৃতি বাড়ল, আর সেবার মান কমতে থাকল। এরপর সেই সেবা উন্নত করার পরিবর্তে তারা এক অদ্ভুত ব্যবস্থা চালু করল। আর তা হলো আবর্জনা নিয়ে বাণিজ্য কিংবা ধান্দা। আবর্জনা ব্যবস্থাপনাকেই তারা একধরনের ব্যবসায় পরিণত করেছে।
নগরবাসী নিয়মিত ট্যাক্স দেয়। নগরবাসীকে সেবা দেওয়াই সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব। তাহলে আবর্জনা ব্যবস্থাপনার জন্য নগরবাসীকে আবার আলাদা করে অর্থ দিতে হবে কেন?
যাহোক, যে কথা বলছিলাম।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই দেখলাম, এই আবর্জনার স্তূপটি উধাও হয়ে গেছে। ওই সরকারের পুরো সময়টাতে এরপর আর সেখানে আবর্জনা জমতে দেখিনি। শুধু এই জায়গাটিই নয়, রাস্তার পাশে এ রকম আরও অনেক জায়গায় জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছিল।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সেগুলো পরিচ্ছন্নই ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবর্জনার স্তূপগুলো আবার আগের জায়গায় ফিরে এল এবং ক্রমেই বাড়তে থাকল।
আমার পর্যবেক্ষণ ও প্রশ্নটা ঠিক এখানেই।

নির্দলীয় সরকারের (তত্ত্বাবধায়ক কিংবা অন্তর্বর্তীকালীন) সময় পরিবেশ তুলনামূলকভাবে পরিচ্ছন্ন থাকে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও মোটামুটি ভালো থাকে। তাহলে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের সময় এর ব্যতিক্রম কেন ঘটে?

আবর্জনা বাড়ে, চাঁদাবাজি বাড়ে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়। জ্বালানি, ভোজ্যতেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়তে থাকে। সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে।

মানুষ ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচিত করে এই আশায় যে, এবার হয়তো একটু শান্তিতে থাকা যাবে, জীবনযাত্রার কিছুটা উন্নতি হবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ফল হয় উল্টো। ভোটের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ভোটের পর আর সেভাবে মনে থাকে না। কারণ, প্রতিশ্রুতিগুলোর অনেকটাই যেন ভোট পাওয়ার উদ্দেশ্যেই দেওয়া হয়।
যাক, এবার একটু ঢাকা শহরের প্রসঙ্গে ফিরে আসি।

ঢাকায় এখন দুই সিটি কর্পোরেশন ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ফুটপাতের হকারদের নিয়ে ব্যস্ত। কীভাবে তাদের উৎখাত করা যায়, সেই চেষ্টাই চলছে। তবে আমার বিশ্বাস, বর্তমান পদ্ধতিতে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে না।
কারণ, এই পদ্ধতিতে সমস্যার মূল উৎপাটনের চেয়ে ওপরের অংশটুকু সরানোর চেষ্টা বেশি দেখা যাচ্ছে। বিষয়টা অনেকটা ডালপালা ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে গাছ ফেলার চেষ্টার মতো। অথচ সমস্যার মূলে পৌঁছাতে হলে এর গর্ভাশয় অর্থাৎ যেখানে এটার উৎপত্তি হয় মানে এর পেছনে থাকা অবৈধ সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থাপনাকে চিহ্নিত করতে হবে। এই ব্যবস্থার সঙ্গে প্রশাসনের অভ্যন্তরে কারা কীভাবে জড়িত, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এরপর রয়েছে এর খাদ্য তথা চার্জিং। অর্থাৎ এসব রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার অবৈধ চার্জিং স্টেশন। বিদ্যুৎ বিভাগের এগুলো সম্পর্কে অজানা থাকার কথা নয়। তাহলে এসব অবৈধ চার্জিং স্টেশনের বিরুদ্ধে কতটুকু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা তো আমরা দেখতেই পাচ্ছি। সব মিলিয়ে মনে হয়, কিছুদিন পর এই উদ্যোগও হয়তো আগের মতোই স্তিমিত হয়ে পড়বে।

সুতরাং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমার অনুরোধ, দয়া করে আপাতত ওগুলোকে একটু পাশে রেখে আমাদের আবর্জনার হাত থেকে বাঁচান।

আমরা ট্যাক্স দিচ্ছি, আবার আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য আলাদাভাবেও পয়সা গুনছি। বিনিময়ে অন্তত পরিচ্ছন্ন পরিবেশটুকু তো আমরা চাইতেই পারি।
দয়া করে আবর্জনা ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলুন। নগরবাসীর জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

অন্তত এই দায়িত্বটুকু যথাযথভাবে পালন করে আমাদের ধন্য করুন!

11/10/2026

# পূর্ণিমার চাঁদ :

২৬ শে সেপ্টেম্বর মধু পূর্ণিমা ছিল। সন্ধ্যার একটু পর প্রতিদিনের মত হাঁটা শেষ করে ফিরছিলাম। ফুটপাত ধরে হাঁটছি। হঠাৎ করেই আকাশের দিকে তাকাতেই চোখে পড়লো চমৎকার পূর্ণিমার চাঁদ। শহরে আমরা খেয়ালই করি না কখন চাঁদ উঠলো কখন ডুবলো। পূর্ণিমা নাকি অমাবশ্যা। এমনকি ঈদের চাঁদ দেখাও আমরা ভুলে গেছি।

যাহোক আজ হঠাৎ করেই চোখে পড়লো চাঁদটা। পূর্ণিমার চাঁদ তবুও তার আলো নীচে পৌঁছুচ্ছেনা। কারন মানুষের সৃষ্টো কৃত্রিম আলো। উপরে স্রস্টার সৃষ্টি চাঁদ আলো ছড়াচ্ছে। নীচটা মানুষের সৃষ্টি কৃত্রিম আলোয় আলোকিত। এই চমৎকার দৃশ্যটার ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারি নাই। তাই ছবি তুলে রেখেছিলাম। আজ হঠাৎ করেই মোবাইলে ছবিটি চোখে পড়লো। তাই শেয়ার করলাম ---

10/10/2026

বহুদিন পর এই ভিডিও তে যে বাক্সটা দেখা যাচ্ছে আজ লেকে হাঁটতে যেয়ে সেটা দেখলাম। ভিডিও করার লোভ সামলাতে পারলাম না। এটার নাম বায়োস্কপ। আগে মেলায় দেখা যেত। আগে এটার জনপ্রিয়তাও ছিল অনেক। আগে এখনকার মত সিনেমা টিভি ছিল না। মোবাইলতো এই সেদিন আসলো। তখন এই বায়োস্কপ সেই জায়গা পুরোন করতো। এটা তখন মেলাতে তো থাকতোই, এমনিও গ্রামে গ্রামেও ঘুরতো। এটা যখন যে গ্রামে আসতো বাচ্চারা তো বটেই বড়রাও দেখার জন্য ভীড় জমাতো।

যে বাক্সটা দেখা যাচ্ছে এর ভিতরে একটার পর একটা ছবি ফিতার মতো সাজানো থাকে। এই ছবিগুলো একদিকে রোল করে রাখা হতো। অন্য প্রান্ত বাঁধা থাকতো আরাকটি দন্ডে। খালি দন্দটা ঘুরাতে থাকলে এক প্রান্ত থেকে ছবি গুলো অন্য প্রান্তে যেতে থাকতো। আর বাক্সের সামনে কাঁচ লাগানো গোল তিনটা জানালার মতো ছিদ্র থাকতো। সম্ভবত কাচটা ছিল ছোট ছবিকে বড় করে দেখানো যায় এরকম। আমার ঠিক মনে নাই। ছবি ঘুরতে থাকতো। আর কাঁচ লাগানো গোল জানালায় চোখ রেখে সবাই দেখতো। এর সাথে যে ব্যক্তি অপারেট করতো সে নাচতে নাচতে গান গাইতো সম্ভবত হাতে কিছু একটা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে। গানটা সম্ভবত এরকম ছিল " তারপরে তো ওমুক এলো, তারপরে তো তমুক এলো--- "। এখানে অবশ্য কিছুটা আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। দুটো সাউন্ড বক্সের সাথে রেকর্ড করা গান যুক্ত করা হয়েছে। ম্যানুয়ালি ছবিগুলো ঘুরানোর বদলে সম্ভবত অটোমেটিক ভাবে যাতে ঘুরে সে ব্যবস্হা করা হয়েছে। এবং ছবি গুলোতেও নতুনত্ব যোগ হয়েছে।তবে এটা আমার অনুমান। সময়ের অভাবে প্রচন্ড ইচ্ছে থাকা সত্বেও আমি চোখ রাখতে পারি নাই। পরবর্তীতে নিশ্চয়ই দেখবো।

নীচের ছবিতে লক্ষ্য করুন একটা সাইন বোর্ড। লেখা আছে 'এখানে পার্কিং করা নিষেধ'। ফুটপাথের পাশেই সহকারী পুলিশ কমিশনারের কার্য...
09/10/2026

নীচের ছবিতে লক্ষ্য করুন একটা সাইন বোর্ড। লেখা আছে 'এখানে পার্কিং করা নিষেধ'। ফুটপাথের পাশেই সহকারী পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়। অথচ সাইন বোর্ডের নীচে সারি সারি গাড়ি পার্কিং। জিজ্ঞেস করে জানলাম সবাই বিভিন্ন দরকারেই থানায় এসেছে। যাহোক আইন আইনের মত চলবে। আমার প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। আমার জানামতে (নিজেও ভুক্তভোগী ) রাস্তার পাশে পার্কিং নিষিদ্ধ। এজন্য গাড়ি বিশেষ করে প্রইভেট কার পার্কিংএর জন্য প্রায় কেস খেতে হয় এবং জরিমানা গুনতে হয়। তবে এই গাড়ি গুলো হয়তো অন্য কোন আইন ভঙ্গের জন্য এসেছে। কিন্তু আইন ভাঙ্গার কারনে যে গাড়িগুলো এখানে এসেছে তারা তো আরাক আইন ভঙ্গ করে গাড়ি পার্কিং করেছে। তাও আবার পার্কিং নিষিদ্ধ সাইনবোর্ডের নীচে, থানার একদম সামনে। পুলিশের এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলেই আমার মনে হয়। বাকী পুলিশ তো আইন জানেই। এভাবে এ জায়গায় পার্কিং অন্যের মনে ভুল ধারনার জন্ম দিতে পারে, যেমন আমার হয়েছিল। ফাইন করার জন্য এভাবে গাড়ি দাঁড় না করিয়ে অন্য ব্যবস্হা নেওয়া প্রয়োজন বলে একজন নাগরিক হিসেবে আমার বিশ্বাস।

Address

Road No. 13
Dhaka
1209

Telephone

01819260704

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Arch.heritage ltd. posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Arch.heritage ltd.:

Shortcuts

Share

Nearby home improvement businesses