RUMIS HOME DECOR

RUMIS HOME DECOR We are providing home decorating services.

09/10/2026

❤️‍🩹❤️‍🔥💔 মোবাইলে কোরআন, কোরআন ধ্বংসের নীলনকশা

শুরুতেই বলে রাখি, আমি একজন ব্যাকডেটেড মুসলিম। আর এই পোস্টটা তাদের জন্য, যারা আমার মতো ব্যাকডেটেড মুসলিম হওয়ার ইচ্ছা রাখেন।

একটা সময় ছিল, আমরা যখন দ্বীনের পথে এসেছি, তখন মোবাইল-ইন্টারনেট এত সহজলভ্য ছিল না।
তখন কোরআনের সঙ্গে আমাদের একটা সম্পর্ক ছিল।
সখ্যতা ছিল।
মহব্বত ছিল।
ইশক ছিল।
কোরআন তখন শুধু পড়ার একটা বই ছিল না, কোরআন ছিল আমাদের জীবনের সঙ্গী।
তারপর এলো অ্যান্ড্রয়েড ফোন। চারদিকে শুনতে পেলাম অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কত সুবিধা! মানুষের কাছে সুবিধা এলো গান শোনা, মুভি দেখা ইত্যাদি।

আর দ্বীনদার মানুষ আনন্দিত হলো অন্য কারণে । ভাবল, যেখানে-সেখানে মোবাইল বের করে কোরআন পড়া যাবে। কোরআন তিলাওয়াত শোনা যাবে। হামদ-নাত শুনে মনটা হালকা করা যাবে। এই আশাতেই আমিও অ্যান্ড্রয়েড হাতে তুলে নিয়েছিলাম।

কিন্তু জানতাম না ? এই ছোট্ট যন্ত্রটা একদিন শুধু কোরআন পড়ার সুযোগই দেবে না, বরং হাজার হাজার ফিতনার দরজাও খুলে দেবে? আমাদের হাতে কোরআন তুলে দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের চোখের সামনে খুলে দেবে অশ্লীলতা। কানে ঢুকিয়ে দেবে গান-বাজনা। মনে ঢুকিয়ে দেবে দুনিয়ার মোহ। আর ধীরে ধীরে এমন একটা জীবন তৈরি করবে, যেখানে কোরআন থাকবে মোবাইলে। কিন্তু হৃদয়ে থাকবে গাফলতি।

কসম আল্লাহর , মোবাইল থেকে কোরআন পড়ে আমি কোনোদিন সেই শান্তিটা পাইনি, যে শান্তি কোরআন শরীফ হাতে নিয়ে পড়লে পেতাম। তাই অনেক বছর আগেই আমার মোবাইল থেকে কোরআনের সব অ্যাপস ডিলিট করে দিয়েছি।

অনেকদিন আগে একটা হাফেজা মেয়ে আমার বাসায় আসত। তাকে নাজরানা শোনাতাম। প্রথমদিন তার সামনে আমি কোরআন শরীফ এগিয়ে দিলাম। সে কোরআনটা সরিয়ে রাখল। তারপর মোবাইল বের করল। মোবাইল থেকে কোরআন খুলল।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কোরআন থেকে পড়বে না?” সে বলল “আপু, অজু নেই।”
আমি বললাম বারবার অজু করবে। তুমি জানো না কিয়ামতের দিন ওযুর জায়গাগুলোতে অলংকার পরানো হবে?
আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম “তুমি কি সব স্টুডেন্টকেই মোবাইল থেকে কোরআন পড়াও?”
সে বলল " হ্যাঁ।” আমি সেদিন ভয় পেয়েছিলাম। কী ভয়াবহ একটা সময়ে আমরা এসে দাঁড়িয়েছি!

যে কোরআন সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন,
“আমি যদি এই কোরআন কোনো পাহাড়ের ওপর নাজিল করতাম, তবে তুমি দেখতে পেতে, তা আল্লাহর ভয়ে অবনত ও বিদীর্ণ হয়ে গেছে।”
সূরা আল-হাশর, ৫৯:২১

সেই কোরআন আজ আমাদের মোবাইলে।
যে মোবাইলের ভেতরে পৃথিবীর অসংখ্য ফিতনা।
অসংখ্য গুনাহ। অসংখ্য হারামের দরজা। একই স্ক্রিনে কখনো কোরআন আবার কয়েক সেকেন্ড পরেই গুনাহ! এ যেন মদের এঠো গ্লাসে জমজম খাওয়া।

যে কোরআন নাজিল হওয়ার সময় প্রিয় নবী (সা:) কষ্ট পেতেন, তাঁর শরীরে জ্বর আসত, তিনি ঘামে ভিজে যেতেন মনে হতো যেন পৃথিবীর সমস্ত ওজন তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই কোরআন আজ আমাদের মোবাইলের একটা ফাইল!

আমি ভাবতে ভাবতে অন্ধকারে হারিয়ে যাই। যখন দেখি, যে মোবাইলে গান বাজে, সেই মোবাইলেই খোদার কালাম ভেসে ওঠে। কোরআন তিলাওয়াত চলছে । হঠাৎ কল আসে। কোরআন থেমে যায়। আর পর্দায় ভেসে ওঠে যে কল করে তার ছবি।

একজন ইন্ডিয়ান বোনকে দেখেছি মোবাইলে কোরআন পড়ছিলেন। হঠাৎ কল এলো। আর সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলের স্ক্রিনে একটা দুর্গা মূর্তির ছবি ভেসে উঠল। হয়তো তার কোনো ইন্ডিয়ান বন্ধু সেই ছবিটা প্রোফাইল পিকচার হিসেবে দিয়েছিল।
আমি ভাবতে ভাবতে অন্ধকারে হারিয়ে যাই। আমার হাত কাঁপে। আমার অন্তর কাঁপে।

সাহাবায়ে কেরাম তাঁদের জীবনের কমবেশি সব সফরে কোরআন সঙ্গে রাখতেন। এমনকি যুদ্ধের ময়দানেও কোরআন তাঁদের সঙ্গে থাকত।
আর আজ?
আজ আমরা অজুর বাহানায় কোরআনকে হাত দিয়েও ধরতে চাই না। " অজু ছাড়া মোবাইলে কোরআন পড়া যায়" কথাটা মুসলমানকে ওযু থেকে দূরে রাখার আরেক নীলনকশা। মুমিন কি ওযু ছাড়া বেশি সময় অতিবাহিত করতে পারে?

দ্বীনে আসার পর আমি অনেক বড় আপুদের দেখেছি, সকালে স্বামীর লাঞ্চ বক্স অফিসের ব্যাগে গুছিয়ে দেওয়ার সময় ছোট একটা কোরআনও ব্যাগে ঢুকিয়ে দিতেন।
যে যেখানে বেড়াতে যেতেন, কোরআন সঙ্গে নিতেন। সবার ব্যাগে একটা ছোট কোরআন থাকত।

আর এখন?
মানুষ বের হওয়ার সময় দেখে মোবাইলটা নিয়েছি তো? আর কোরআন ধুলিময় হয়ে পড়ে থাকে আলমারির উপরে, কাপড়ে ঢাঁকা।

আমি ভাবতে ভাবতে অন্ধকারে হারিয়ে যাই। ইহুদিরাও তাদের কিতাব মোবাইলে পড়ে না। তারা তাদের কিতাবকে বুকে আঁকড়ে ধরে আছে।

আচ্ছা, একবার একটু দূরের ভবিষ্যৎ কল্পনা করুন।
সবাই মোবাইলে কোরআন পড়ছে। মোবাইলে পড়তে পড়তে একসময় মানুষ আসল কোরআন শরীফ কেনা বন্ধ করে দিল।
কেন?
কোরআন রাখা ঝামেলা। বহন করা ঝামেলা। আর আমি তো ব্যস্ত মানুষ।আমার তো নিয়মিত পড়াই হয় না। মোবাইলেই তো আছে!
তারপর?
একসময় কোরআন ছাপা বন্ধ হয়ে গেল। কোথাও আর কোরআন খুঁজে পাওয়া যায় না। মানুষ মোবাইল-ট্যাবে কোরআন পড়ে।

আর ঠিক সেই মুহূর্তে, কাফের-মুশরিকরা সমস্ত কোরআন অ্যাপস ধ্বংস করে দিল। কারণ মোবাইলের সমস্ত কন্ট্রোল তো তাদের হাতেই।
অথবা ধীরে ধীরে মোবাইলে কোরআন ভুলভাবে ঢুকিয়ে দিতে শুরু করল। তখন? তখন আপনি কী করবেন?

জানেন তো?
রাশিয়ায় রুশ কমিউনিস্টরা ১৯২০ সালে সমস্ত কোরআন ধ্বংস করে দিয়েছিল। সেই ক্ষতি রাশিয়া ও সেখানকার মুসলমানদের জীবনে এখনো পূরণ হয়নি। রাশিয়ার অনেক মুসলমান এখনো আরবি কোরআন পড়তে পারে না। তারা সিরিলিক ভাষায় কোরআন পড়ে। রাশিয়ান তর্জমা ও উচ্চারণের ওপর নির্ভর করতে হয়।
কত প্রজন্ম আরবি কোরআন থেকে বঞ্চিত হলো।
এভাবেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম দূরে সরে যায় কোরআন থেকে। একসময় বুখারা ছিল ইসলামের প্রাণকেন্দ্র। ইমাম বুখারি (রহ:) শহর। এখানের মানুষই আজ আরবি কোরআন পড়তে পারে না।
সেই দিন হয়তো খুব বেশি দূরে নয়। কারণ প্রত্যেক মুসলমান এখন মোবাইলেই কুরআন পড়তে চায়। হাজিরা হজ-উমরায় গিয়ে মোবাইল দেখে দোয়া পড়ে।
মোবাইল দেখে তাওয়াফ করে। আমি ভাবতে ভাবতে অন্ধকারে হারিয়ে যাই।

অথচ একজন মুসলমানের কাছে সব সময় একটা ছোট ব্যাগ থাকা উচিত। সেখানে থাকবে, একটা ছোট কোরআন, পাতলা জায়নামাজ, মিসওয়াক, তাসবিহ, আতর, আর পবিত্রতা হাসিলের জন্য টিস্যু পেপার।

মুসলমান ট্রাভেল করে কত কিছু সঙ্গে নেয়। কিন্তু কোরআন সঙ্গে নিতে তার ঝামেলা লাগে। নারীরা কত প্রসাধনী সঙ্গে বহন করেন। কিন্তু একটা কোরআন ব্যাগে রাখলে ব্যাগ ভারী লাগে!

যে কোরআন দেখলে সওয়াব। যে কোরআন ধরলে সওয়াব। আসুন, সেই কোরআনকে আবার নিজের জীবনে ফিরিয়ে আনি। সব সময় নিজের সঙ্গে রাখি। বাসে, ট্রেনে, প্লেনে, জাহাজে, যেকোনো পরিবেশে, যেকোনো আয়োজনে।

যেন ,আমি যখন কোরআন খুলে পড়ি, আমাকে দেখে অন্য একজনের মনে প্রশ্ন জাগে, এই বইটায় কী আছে?
বিশেষ করে যারা কাফের-মুশরিকদের দেশে থাকেন,
আপনারা যখন বাসে, প্লেনে কিংবা কোনো পাবলিক প্লেসে সময়মতো কোরআন পড়বেন, কখনো কি ভেবে দেখেছেন, আপনার কোরআন পড়াটাও হয়তো তাদের জন্য দাওয়াত হয়ে যেতে পারে। হয়তো কেউ আপনাকে দেখে জানতে চাইবে, আপনি কী পড়ছেন? হয়তো তার হৃদয়ে কোরআনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে।
অথচ আপনি সেই কোরআনকে রুমালে বাঁধা অবস্থায় আলমারির ওপরে রেখে দিয়েছেন।

আসুন, কোরআনকে ২৪ ঘণ্টা নিজের সঙ্গে রাখি। অফিসের ব্যাগে। ইউনিভার্সিটির ব্যাগে। ট্যুরে। হজের সফরে। একটা কাভারওয়ালা কোরআন।
তাহলে অজু ছাড়া ধরার ব্যাপারেও যে ফিকহি বিধান আছে, তা মেনে চলা সহজ হবে। খুলে পড়ার সময় অজু করে নেব।
তাহলেই হয়তো বা দুনিয়া থেকে কোরআনকে বিলুপ্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা যাবে। ভাবুন। ভাবতে হবে। না হলে সামনে কঠিন ফেতনার অতলে ডুবে যাব।

এখানে কোনো ফতোয়া শোনাবেন না। আমি সব ফতোয়া জেনে পোস্ট লিখেছি । তাকওয়া অনেক উপরের স্তর। জায়েজের মধ্যেও নিম্নস্তরের জায়েজ থাকে। তাকওয়াবানরা কখনো জায়েজ নাজায়েজের সীমানার উপরে দাঁড়িয়ে থাকে না, যাতে করে যে কোন মুহূর্তে পা পিছলে নাজায়েজের মধ্যে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তাকওয়ার উপরে কোনো কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। আল্লাহকে ভয় পেয়ে মানুষ যেটা করবেন সেটারই আল্লাহ পুরস্কার দিবেন। ভয় ছাড়া সব এলেম বৃথা।
আর ওই যে বললাম, আমি ব্যাকডেটেড মুসলিম। আমি সাহাবাদের জিন্দেগিতে, তাদের পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটতে পছন্দ করি। কারণ, যত পিছনে হাঁটব, সাহাবিরা মিলবে। আর যত সামনে যাব মিলবে দাজ্জাল।

আমার এই পোস্টে কমেন্ট করার আগে একবার নিজের কোরআনটা হাতে নিন। বুকে জড়িয়ে ধরুন। তারপর তিনবার বলুন,
হাজা কিতাবু রব্বি। হাজা কিতাবু রব্বি। হাজা কিতাবু রব্বি। এটা আমার রবের কিতাব, এটা আমার রবের কিতাব, এটা আমার রবের কিতাব।”

এই কথাগুলো বলতে বলতে কাঁদুন। মন খুলে কাঁদুন, কাঁদুন। কাঁদুন। আর কাঁদুন।

তারপর এসে শুধু এটুকু বলুন, কোরআন বুকে জড়িয়ে ধরে আপনি কতটুকু শান্তি পেলেন।
Collected

তপ্ত দুপুরে জেদ্দা-জাজান মহাসড়কের দিকে তাকালে মনে হয় মরুভূমির বুক চিরে আগুন ঝরছে। রমজানের সেই তপ্ত দিনে কফিলের সঙ্গে য...
08/09/2026

তপ্ত দুপুরে জেদ্দা-জাজান মহাসড়কের দিকে তাকালে মনে হয় মরুভূমির বুক চিরে আগুন ঝরছে। রমজানের সেই তপ্ত দিনে কফিলের সঙ্গে যাকাত বিতরণের উদ্দেশ্যে উপকূলীয় এক দারিদ্র্যপীড়িত গ্রামের পথ ধরেছিলাম। সেই খাঁ খাঁ রোদে দূর থেকে দেখা গেল একা এক ছায়ামূর্তি—নড়বড়ে পায়ে কিন্তু অটল বিশ্বাসে হেঁটে চলেছেন সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। পরনে ধূলিমলিন পোশাক, ঠোঁট দুটো পিপাসায় শুকিয়ে কাঠ। কিন্তু তার চোখেমুখে এমন এক অপার্থিব প্রশান্তি, যা কেবল কোনো পরম প্রেমিকের মুখেই মানায়।

এক নিঃস্ব আশিকের অবিচল পদযাত্রা

গাড়ি থামিয়ে কাছে গিয়ে সালাম দিতেই ক্লান্তিহীন এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল তার মুখে। পরিচয় জানতে চাইলে বললেন, তিনি সুদূর যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন থেকে এসেছেন। গন্তব্য কোথায়? দ্বিধাহীন চিত্তে তিনি উত্তর দিলেন—পবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ, উমরাহ করতে যাচ্ছেন তিনি। আইনসম্মত পথ বাদ দিয়ে এই মৃত্যু উপত্যকায় কেন? বৃদ্ধের সরল জবাব, 'আমার কাছে তো দুই হাজার রিয়াল জামানত দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না বাবা। সম্বল ছিল মাত্র দুইশ রিয়াল। একশ রিয়াল ভাড়ায় শেষ, পকেটে পড়ে আছে শেষ একশটি রিয়াল। তাই বাকি পথটুকু পায়ে হেঁটেই পাড়ি দিচ্ছি।' টানা ছয় দিন ধরে এই মরুভূমিতে হাঁটছেন তিনি। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই তীব্র তাপদাহ আর দীর্ঘ ক্লান্তিকর সফরের মাঝেও তিনি সিয়ামরত!

রবের কুদরতে উন্মুক্ত রাজপথ

হতবাক হয়ে আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, 'এত শত চেকপয়েন্ট আপনি কীভাবে পার হলেন। কেউ আপনাকে আটকায়নি?' বৃদ্ধ বললেন, 'কসম সেই মহান রবের, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই! আমি প্রতিটি চেকপয়েন্টের সামনে দিয়েই হেঁটে গেছি, কিন্তু কেউ আমাকে আটকায়নি।' তিনি আরও বললেন, 'কিছুক্ষণ আগে একটা দল আমাকে ধরে থানায় নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যখন আমি বললাম আমার উদ্দেশ্য শুধু বাইতুল্লাহর জিয়ারত, তখন তারা আমাকে ছেড়ে দিয়েছে।' এ কথা শুনে রীতিমতো আমাদের শরীরের পশম দাঁড়িয়ে গেল, আসলে যার অন্তরে বাইতুল্লাহর ভালোবাসা খাঁটি, তামাম পৃথিবীর কোনো সীমান্ত তাকে আটকে রাখতে পারে না।

অশ্রুজলে ভেজা আসমানি মদদ

বৃদ্ধের ঈমানি দৃঢ়তা দেখে কাফিলের চোখ ভিজে উঠল। তিনি যাকাতের দুটি খাম বৃদ্ধের কাঁপতে থাকা হাতে তুলে দিলেন। বৃদ্ধ বিনীতভাবে ধন্যবাদ জানালেন, কিন্তু তিনি জানতেন না সেখানে কী আছে। আমরা যখন বললাম, 'বাবা, খাম খুলে টাকাগুলো নিরাপদে গুছিয়ে রাখুন,' তখন খাম খুলে দশ হাজার রিয়াল দেখে বৃদ্ধ স্তব্ধ হয়ে গেলেন। চরম বিস্ময় আর আবেগে তিনি গাড়ির সিটেই লুটিয়ে পড়লেন। দুচোখ বেয়ে শ্রাবণের মতো অশ্রু ঝরছিল, আর অস্ফুট স্বরে বলছিলেন, 'এসব কি সত্যিই আমার জন্য? এত বড় অঙ্ক সব আমার?' পানি ছিটিয়ে চেতনা ফেরানোর পর তিনি ডুকরে কেঁদে উঠে বললেন, 'ইয়েমেনে আমার একটা ছোট বাড়ি আছে। তার সঙ্গে একটা জমি ছিল যেটা আমি আল্লাহর নামে ওয়াকফ করে দিয়েছি। সেই জমিতে আমি ছেলেমেয়েদের সঙ্গে মিলে মসজিদ তৈরি করেছি। ভবন তৈরি হয়ে গেছে, কিন্তু মেঝে আর কিছু জিনিস বাকি আছে। আমি এই চিন্তায় ছিলাম যে টাকা কোথা থেকে আসবে। আজ আল্লাহ আপনাদের মাধ্যমে আমাকে তা দান করেছেন।'

পাখির মতো রিজিক আর অনন্ত তাওয়াক্কুল

দৃশ্যটি দেখে আমরা আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না। রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সেই অমিয় বাণী যেন চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠল—যার উদ্দেশ্য হয় আখিরাত, আল্লাহ তার অন্তরে প্রাচুর্য দেন এবং দুনিয়া তার পায়ে এসে লুটিয়ে পড়ে। কাফিল সাহেব ব্যাকুল হয়ে আরও দুটি খাম তার হাতে গুঁজে দিলেন। সর্বমোট বিশ হাজার রিয়াল কোলে জড়িয়ে ধরে মরুভূমির বুকে দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন সেই বৃদ্ধ। বারবার বলছিলেন, 'আল্লাহ আজ পাখির মতো আমাকে রিজিক পৌঁছে দিলেন।' ঠিক যেমনটি হাদিসে বলা হয়েছে—যদি তোমরা আল্লাহর ওপর যথার্থ তাওয়াক্কুল করতে, তবে তিনি পাখিদের মতো তোমাদের রিজিক দিতেন; যারা সকালে শূন্য পেটে বের হয় আর সাঁঝের বেলা উদর পূর্ণ করে বাসায় ফেরে। মরুভূমির সেই অলৌকিক দুপুর সাক্ষী রইল, যে বান্দা সব ছেড়ে রবের ওপর ভরসা করে, মরুভূমির তপ্ত বালুকাও তার জন্য রহমতের বিছানা হয়ে যায়।

বি.দ্র: উক্ত ঘটনাটি সৌদি প্রবাসী এক ভাইয়ের সাথে ঘটা, যা আমরা ডা: আব্দুর রহমান নামে এক ভাইয়ের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।
(সংগৃহীত)

06/09/2026
11/08/2026

আপনার বয়স ২২-৪০ এর মধ্যে হলে আপনার টার্গেট হবে সবার আগে ২ লাখ টাকা জমানো।

এরপর নিজে পারলে ভালো,না পারলে কোন এজেন্সি মাধ্যমে মদিনা তুলনামূলক বেশি দিন থাকবে এমন প্যাকেজে উমরাহ বুক করা।

প্যাকেজের মধ্যে ৫ স্টার হোটেল বাদ দিয়ে বলবেন কুবা রোড বা মসজিদে বেলালের আশপাশের ভাংগাচুরা হোটেলে ব্যবস্থা করতে।

খাবার প্যাকেজ নরমাল,সব নরমাল।
মদিনায় ল্যান্ড করেই আগে বিশাল ঘুম দিবেন,
ফজর যোহর আসর যে কোন জায়গায় পড়বেন।

মাগরিবের নামাজ পড়তে চলে যাবেন সোজা মসজিদে নববী (সা) তে। দোতলায় নামাজ পড়বেন,নামাজ শেষে পা ছড়িয়ে শুয়ে আকাশ দেখবেন। যদি আকাশে ঝলমলে চাঁদ থাকে তাহলে তো কথাই নেই!

আকাশ দেখা শেষ হলে ৪ গ্লাস পানি খাবেন,জমজমের। নাম জমজম হলেও এই পানির স্বাদ দুনিয়ার যে কোন পানি থেকে আলাদা। মনে হবে মহান আল্লাহ আপনাকে জান্নাত থেকে পানি খাওয়াচ্ছেন! ( সুবহানাল্লাহ)

পানি খাওয়া শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে আশেপাশে হাঁটাহাঁটি করুন। কল্পনার ডানায় ভর করে হারিয়ে যান ১৪০০ বছর আগের সাহাবাদের যুগে। শামিল হয়ে যান সাহাবায়ে কেরামের রা. নূরানী কাফেলায়...

কিছুদূর পর পর সাহাবায়ে কেরামের রা. নামে মসজিদ দেখবেন। যে কোন এক মসজিদে এশার নামাজ পড়ে নিবেন।

এরপর বের হয়ে মদিনার চারিদিকে হাটবেন।
আপনি ফিল করবেন মদিনার বাতাস,মদিনার রাস্তা ,সব কিছু কেমন আরামদায়ক। আপনার সেই সময় মনে হবে,মদিনা শহর মনে হয় জান্নাতের এক টুকরো।
কারন এই শহরে ঘুমিয়ে আছেন প্রিয় নবী (সা)।

হাঁটতে হাঁটতে একটি সবুজ ঘাসের জমিতে বসবেন।
রাস্তার পাশে থেকে এক টুকরো মুরগি ফ্রাই নিয়ে রাস্তায় ছিটিয়ে দিবেন।
কোথা থেকে এক পাল বিড়াল এসে আপনাকে
ঘিরে ধরবে,কোলে উঠবে,মুরগি খাবে।
আপনি শুধু বিড়ালের কান্ডকারখানা দেখবেন।

এরপর গা ঝাড়া দিয়ে মসজিদে নবী ( সা) এসে তাহাজ্জুদ পড়ে নিবেন,সামনে কাতারে।

নামাজ পড়া শেষে মানুষজনের সাথে কথা বলবেন।বাইরে গিয়ে পুলিশ অফিসারদের সাথে গুগল ট্রান্সলেটর দিয়ে গল্প করবেন।

মসজিদে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা আশিকে নবী সা. তথা আল্লাহর নবীর সা. মেহমানদের সাথে দ্বীন নিয়ে আলোচনা করবেন।
মনে হবে,আরেহ এই তো আমার পরিচিত বন্ধু,
কত দিনের চেনা!

আস্তে আস্তে ফজরে সময় হবে। ফজর পড়ে নবীজীর (সা) রওজায় সালাম দিবেন, আপনার মনের কথা বলবেন। সালাতুল ইশরাকের নামাজ পড়ে বাসায় হালকা খেজুর, জমজম খেয়ে গিয়ে ঘুম দিবেন।

সিম্পল কিছু কাজ।
কিন্ত এই কাজের যে শান্তি,
দুনিয়া সব সম্পদ হাতে দিলেও আপনি
এই শান্তি পাবেন না।

যদি সুযোগ হয়,একবার হলেও মদিনায় যাবেন।
বেহেস্তের স্বাদ আপনি দুনিয়াতেই কিছুটা পাবেন...
(সংগৃহীত)
হে কাবার মালিক!
কবুল করে নিন আমাদের... 🖤

15/07/2026

☘️ রাব্বি আন্নি মাগলুবুন ফানতাসির ☘️ (رَبِّ أَنِّي مَغْلُوبٌ فَانتَصِرْ)
পবিত্র কুরআনের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দোয়া।
এই দোয়াটি পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ক্বামরের ১০ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। হযরত নূহ (আ.) যখন তাঁর কওমের সীমাহীন অবাধ্যতা ও বিরোধিতার মুখে পড়ে অত্যন্ত নিরুপায় বোধ করছিলেন, তখন তিনি আল্লাহর কাছে এই বলে প্রার্থনা করেছিলেন।
অর্থ:- "হে আমার প্রতিপালক! আমি পরাজিত (অসহায়), সুতরাং আপনি আমাকে সাহায্য করুন"।
গুরুত্ব ও আমল:-
অসহায় অবস্থায়: কোনো মুমিন যখন নিজেকে খুব অসহায় মনে করেন বা শক্রুর হাত থেকে রক্ষা পেতে কোনো পথ খুঁজে পান না, তখন এই দোয়া পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর সরাসরি সাহায্য চাওয়া হয়।
(সংগৃহীত)

ইংশাআল্লাহ 💖
08/07/2026

ইংশাআল্লাহ 💖

Address

Rajshahi

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when RUMIS HOME DECOR posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to RUMIS HOME DECOR:

Shortcuts

Share