09/10/2026
❤️🩹❤️🔥💔 মোবাইলে কোরআন, কোরআন ধ্বংসের নীলনকশা
শুরুতেই বলে রাখি, আমি একজন ব্যাকডেটেড মুসলিম। আর এই পোস্টটা তাদের জন্য, যারা আমার মতো ব্যাকডেটেড মুসলিম হওয়ার ইচ্ছা রাখেন।
একটা সময় ছিল, আমরা যখন দ্বীনের পথে এসেছি, তখন মোবাইল-ইন্টারনেট এত সহজলভ্য ছিল না।
তখন কোরআনের সঙ্গে আমাদের একটা সম্পর্ক ছিল।
সখ্যতা ছিল।
মহব্বত ছিল।
ইশক ছিল।
কোরআন তখন শুধু পড়ার একটা বই ছিল না, কোরআন ছিল আমাদের জীবনের সঙ্গী।
তারপর এলো অ্যান্ড্রয়েড ফোন। চারদিকে শুনতে পেলাম অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কত সুবিধা! মানুষের কাছে সুবিধা এলো গান শোনা, মুভি দেখা ইত্যাদি।
আর দ্বীনদার মানুষ আনন্দিত হলো অন্য কারণে । ভাবল, যেখানে-সেখানে মোবাইল বের করে কোরআন পড়া যাবে। কোরআন তিলাওয়াত শোনা যাবে। হামদ-নাত শুনে মনটা হালকা করা যাবে। এই আশাতেই আমিও অ্যান্ড্রয়েড হাতে তুলে নিয়েছিলাম।
কিন্তু জানতাম না ? এই ছোট্ট যন্ত্রটা একদিন শুধু কোরআন পড়ার সুযোগই দেবে না, বরং হাজার হাজার ফিতনার দরজাও খুলে দেবে? আমাদের হাতে কোরআন তুলে দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের চোখের সামনে খুলে দেবে অশ্লীলতা। কানে ঢুকিয়ে দেবে গান-বাজনা। মনে ঢুকিয়ে দেবে দুনিয়ার মোহ। আর ধীরে ধীরে এমন একটা জীবন তৈরি করবে, যেখানে কোরআন থাকবে মোবাইলে। কিন্তু হৃদয়ে থাকবে গাফলতি।
কসম আল্লাহর , মোবাইল থেকে কোরআন পড়ে আমি কোনোদিন সেই শান্তিটা পাইনি, যে শান্তি কোরআন শরীফ হাতে নিয়ে পড়লে পেতাম। তাই অনেক বছর আগেই আমার মোবাইল থেকে কোরআনের সব অ্যাপস ডিলিট করে দিয়েছি।
অনেকদিন আগে একটা হাফেজা মেয়ে আমার বাসায় আসত। তাকে নাজরানা শোনাতাম। প্রথমদিন তার সামনে আমি কোরআন শরীফ এগিয়ে দিলাম। সে কোরআনটা সরিয়ে রাখল। তারপর মোবাইল বের করল। মোবাইল থেকে কোরআন খুলল।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কোরআন থেকে পড়বে না?” সে বলল “আপু, অজু নেই।”
আমি বললাম বারবার অজু করবে। তুমি জানো না কিয়ামতের দিন ওযুর জায়গাগুলোতে অলংকার পরানো হবে?
আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম “তুমি কি সব স্টুডেন্টকেই মোবাইল থেকে কোরআন পড়াও?”
সে বলল " হ্যাঁ।” আমি সেদিন ভয় পেয়েছিলাম। কী ভয়াবহ একটা সময়ে আমরা এসে দাঁড়িয়েছি!
যে কোরআন সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন,
“আমি যদি এই কোরআন কোনো পাহাড়ের ওপর নাজিল করতাম, তবে তুমি দেখতে পেতে, তা আল্লাহর ভয়ে অবনত ও বিদীর্ণ হয়ে গেছে।”
সূরা আল-হাশর, ৫৯:২১
সেই কোরআন আজ আমাদের মোবাইলে।
যে মোবাইলের ভেতরে পৃথিবীর অসংখ্য ফিতনা।
অসংখ্য গুনাহ। অসংখ্য হারামের দরজা। একই স্ক্রিনে কখনো কোরআন আবার কয়েক সেকেন্ড পরেই গুনাহ! এ যেন মদের এঠো গ্লাসে জমজম খাওয়া।
যে কোরআন নাজিল হওয়ার সময় প্রিয় নবী (সা:) কষ্ট পেতেন, তাঁর শরীরে জ্বর আসত, তিনি ঘামে ভিজে যেতেন মনে হতো যেন পৃথিবীর সমস্ত ওজন তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই কোরআন আজ আমাদের মোবাইলের একটা ফাইল!
আমি ভাবতে ভাবতে অন্ধকারে হারিয়ে যাই। যখন দেখি, যে মোবাইলে গান বাজে, সেই মোবাইলেই খোদার কালাম ভেসে ওঠে। কোরআন তিলাওয়াত চলছে । হঠাৎ কল আসে। কোরআন থেমে যায়। আর পর্দায় ভেসে ওঠে যে কল করে তার ছবি।
একজন ইন্ডিয়ান বোনকে দেখেছি মোবাইলে কোরআন পড়ছিলেন। হঠাৎ কল এলো। আর সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলের স্ক্রিনে একটা দুর্গা মূর্তির ছবি ভেসে উঠল। হয়তো তার কোনো ইন্ডিয়ান বন্ধু সেই ছবিটা প্রোফাইল পিকচার হিসেবে দিয়েছিল।
আমি ভাবতে ভাবতে অন্ধকারে হারিয়ে যাই। আমার হাত কাঁপে। আমার অন্তর কাঁপে।
সাহাবায়ে কেরাম তাঁদের জীবনের কমবেশি সব সফরে কোরআন সঙ্গে রাখতেন। এমনকি যুদ্ধের ময়দানেও কোরআন তাঁদের সঙ্গে থাকত।
আর আজ?
আজ আমরা অজুর বাহানায় কোরআনকে হাত দিয়েও ধরতে চাই না। " অজু ছাড়া মোবাইলে কোরআন পড়া যায়" কথাটা মুসলমানকে ওযু থেকে দূরে রাখার আরেক নীলনকশা। মুমিন কি ওযু ছাড়া বেশি সময় অতিবাহিত করতে পারে?
দ্বীনে আসার পর আমি অনেক বড় আপুদের দেখেছি, সকালে স্বামীর লাঞ্চ বক্স অফিসের ব্যাগে গুছিয়ে দেওয়ার সময় ছোট একটা কোরআনও ব্যাগে ঢুকিয়ে দিতেন।
যে যেখানে বেড়াতে যেতেন, কোরআন সঙ্গে নিতেন। সবার ব্যাগে একটা ছোট কোরআন থাকত।
আর এখন?
মানুষ বের হওয়ার সময় দেখে মোবাইলটা নিয়েছি তো? আর কোরআন ধুলিময় হয়ে পড়ে থাকে আলমারির উপরে, কাপড়ে ঢাঁকা।
আমি ভাবতে ভাবতে অন্ধকারে হারিয়ে যাই। ইহুদিরাও তাদের কিতাব মোবাইলে পড়ে না। তারা তাদের কিতাবকে বুকে আঁকড়ে ধরে আছে।
আচ্ছা, একবার একটু দূরের ভবিষ্যৎ কল্পনা করুন।
সবাই মোবাইলে কোরআন পড়ছে। মোবাইলে পড়তে পড়তে একসময় মানুষ আসল কোরআন শরীফ কেনা বন্ধ করে দিল।
কেন?
কোরআন রাখা ঝামেলা। বহন করা ঝামেলা। আর আমি তো ব্যস্ত মানুষ।আমার তো নিয়মিত পড়াই হয় না। মোবাইলেই তো আছে!
তারপর?
একসময় কোরআন ছাপা বন্ধ হয়ে গেল। কোথাও আর কোরআন খুঁজে পাওয়া যায় না। মানুষ মোবাইল-ট্যাবে কোরআন পড়ে।
আর ঠিক সেই মুহূর্তে, কাফের-মুশরিকরা সমস্ত কোরআন অ্যাপস ধ্বংস করে দিল। কারণ মোবাইলের সমস্ত কন্ট্রোল তো তাদের হাতেই।
অথবা ধীরে ধীরে মোবাইলে কোরআন ভুলভাবে ঢুকিয়ে দিতে শুরু করল। তখন? তখন আপনি কী করবেন?
জানেন তো?
রাশিয়ায় রুশ কমিউনিস্টরা ১৯২০ সালে সমস্ত কোরআন ধ্বংস করে দিয়েছিল। সেই ক্ষতি রাশিয়া ও সেখানকার মুসলমানদের জীবনে এখনো পূরণ হয়নি। রাশিয়ার অনেক মুসলমান এখনো আরবি কোরআন পড়তে পারে না। তারা সিরিলিক ভাষায় কোরআন পড়ে। রাশিয়ান তর্জমা ও উচ্চারণের ওপর নির্ভর করতে হয়।
কত প্রজন্ম আরবি কোরআন থেকে বঞ্চিত হলো।
এভাবেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম দূরে সরে যায় কোরআন থেকে। একসময় বুখারা ছিল ইসলামের প্রাণকেন্দ্র। ইমাম বুখারি (রহ:) শহর। এখানের মানুষই আজ আরবি কোরআন পড়তে পারে না।
সেই দিন হয়তো খুব বেশি দূরে নয়। কারণ প্রত্যেক মুসলমান এখন মোবাইলেই কুরআন পড়তে চায়। হাজিরা হজ-উমরায় গিয়ে মোবাইল দেখে দোয়া পড়ে।
মোবাইল দেখে তাওয়াফ করে। আমি ভাবতে ভাবতে অন্ধকারে হারিয়ে যাই।
অথচ একজন মুসলমানের কাছে সব সময় একটা ছোট ব্যাগ থাকা উচিত। সেখানে থাকবে, একটা ছোট কোরআন, পাতলা জায়নামাজ, মিসওয়াক, তাসবিহ, আতর, আর পবিত্রতা হাসিলের জন্য টিস্যু পেপার।
মুসলমান ট্রাভেল করে কত কিছু সঙ্গে নেয়। কিন্তু কোরআন সঙ্গে নিতে তার ঝামেলা লাগে। নারীরা কত প্রসাধনী সঙ্গে বহন করেন। কিন্তু একটা কোরআন ব্যাগে রাখলে ব্যাগ ভারী লাগে!
যে কোরআন দেখলে সওয়াব। যে কোরআন ধরলে সওয়াব। আসুন, সেই কোরআনকে আবার নিজের জীবনে ফিরিয়ে আনি। সব সময় নিজের সঙ্গে রাখি। বাসে, ট্রেনে, প্লেনে, জাহাজে, যেকোনো পরিবেশে, যেকোনো আয়োজনে।
যেন ,আমি যখন কোরআন খুলে পড়ি, আমাকে দেখে অন্য একজনের মনে প্রশ্ন জাগে, এই বইটায় কী আছে?
বিশেষ করে যারা কাফের-মুশরিকদের দেশে থাকেন,
আপনারা যখন বাসে, প্লেনে কিংবা কোনো পাবলিক প্লেসে সময়মতো কোরআন পড়বেন, কখনো কি ভেবে দেখেছেন, আপনার কোরআন পড়াটাও হয়তো তাদের জন্য দাওয়াত হয়ে যেতে পারে। হয়তো কেউ আপনাকে দেখে জানতে চাইবে, আপনি কী পড়ছেন? হয়তো তার হৃদয়ে কোরআনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে।
অথচ আপনি সেই কোরআনকে রুমালে বাঁধা অবস্থায় আলমারির ওপরে রেখে দিয়েছেন।
আসুন, কোরআনকে ২৪ ঘণ্টা নিজের সঙ্গে রাখি। অফিসের ব্যাগে। ইউনিভার্সিটির ব্যাগে। ট্যুরে। হজের সফরে। একটা কাভারওয়ালা কোরআন।
তাহলে অজু ছাড়া ধরার ব্যাপারেও যে ফিকহি বিধান আছে, তা মেনে চলা সহজ হবে। খুলে পড়ার সময় অজু করে নেব।
তাহলেই হয়তো বা দুনিয়া থেকে কোরআনকে বিলুপ্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা যাবে। ভাবুন। ভাবতে হবে। না হলে সামনে কঠিন ফেতনার অতলে ডুবে যাব।
এখানে কোনো ফতোয়া শোনাবেন না। আমি সব ফতোয়া জেনে পোস্ট লিখেছি । তাকওয়া অনেক উপরের স্তর। জায়েজের মধ্যেও নিম্নস্তরের জায়েজ থাকে। তাকওয়াবানরা কখনো জায়েজ নাজায়েজের সীমানার উপরে দাঁড়িয়ে থাকে না, যাতে করে যে কোন মুহূর্তে পা পিছলে নাজায়েজের মধ্যে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তাকওয়ার উপরে কোনো কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। আল্লাহকে ভয় পেয়ে মানুষ যেটা করবেন সেটারই আল্লাহ পুরস্কার দিবেন। ভয় ছাড়া সব এলেম বৃথা।
আর ওই যে বললাম, আমি ব্যাকডেটেড মুসলিম। আমি সাহাবাদের জিন্দেগিতে, তাদের পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটতে পছন্দ করি। কারণ, যত পিছনে হাঁটব, সাহাবিরা মিলবে। আর যত সামনে যাব মিলবে দাজ্জাল।
আমার এই পোস্টে কমেন্ট করার আগে একবার নিজের কোরআনটা হাতে নিন। বুকে জড়িয়ে ধরুন। তারপর তিনবার বলুন,
হাজা কিতাবু রব্বি। হাজা কিতাবু রব্বি। হাজা কিতাবু রব্বি। এটা আমার রবের কিতাব, এটা আমার রবের কিতাব, এটা আমার রবের কিতাব।”
এই কথাগুলো বলতে বলতে কাঁদুন। মন খুলে কাঁদুন, কাঁদুন। কাঁদুন। আর কাঁদুন।
তারপর এসে শুধু এটুকু বলুন, কোরআন বুকে জড়িয়ে ধরে আপনি কতটুকু শান্তি পেলেন।
Collected