20/05/2026
“সমাজে সুখী কে আপনি?” — একটি ছোট গল্প
রাত তখন সাড়ে ১০টা।
ডাইনিং টেবিলে খাবার ঠান্ডা হয়ে গেছে।
১২ বছরের রুদ্র বই খুলে বসে আছে, কিন্তু চোখ বারবার দরজার দিকে।
হঠাৎ কলিং বেল।
রুদ্র দৌড়ে দরজা খুলতেই দেখে বাবা এসেছে।
ক্লান্ত মুখ।
কাঁধে অফিস ব্যাগ।
চোখের নিচে কালো দাগ।
বাবা সৌম্য বাবু একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন।
মাসে ৫৫ হাজারেরও বেশি বেতন।
সমাজের চোখে “ভালো চাকরি”।
সকালে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যাওয়া,
সারাদিন অফিসের প্রেসার,
বসের টেনশন,
মিটিং, টার্গেট, ফোন, ইমেইল…
তারপর রাতে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফেরা।
কিন্তু বাড়ি ফিরেও শান্তি নেই।
সংসারের হিসাব,
ছেলের পড়াশোনার চিন্তা,
বাড়ির EMI,
ভবিষ্যতের ভয়…
তার উপর আবার অফিসের কিছু পেন্ডিং কাজ।
প্রতিদিন একই জীবন।
একই দৌড়।
সেদিন রাতে রুদ্র হঠাৎ বাবাকে জিজ্ঞেস করল—
— “বাবা, তুমি কি সুখী?”
প্রশ্নটা শুনে সৌম্য বাবু চুপ হয়ে গেলেন।
তিনি ভাবলেন…
“আমি তো অনেকের চেয়ে বেশি ইনকাম করি।
ভালো পড়াশোনা করেছি।
বড় বড় লোকের সাথে পরিচয় আছে।
তবুও কেন যেন ভিতরে শান্তি নেই?”
তিনি বুঝলেন—
তিনি বর্তমানের জন্য নয়,
অজানা ভবিষ্যতের জন্য বেঁচে আছেন।
মানুষ যখন এমন কিছুর চিন্তা করে যার উত্তর তার কাছে নেই,
তখন মন হাজারটা অপশন তৈরি করে।
আর যত বেশি অপশন,
তত বেশি চিন্তা।
রুদ্র তখন পাশে বসে বলল—
— “বাবা, তুমি আগে অনেক হাসতে।”
এই ছোট্ট কথাটাই যেন সৌম্য বাবুর ভিতরটা নাড়িয়ে দিল।
তিনি বুঝলেন—
জীবন শুধু টাকা জমানোর জন্য নয়।
নিজেকে হারিয়ে ফেলার জন্যও নয়।
আপনি না থাকলেও পৃথিবী থেমে যাবে না।
কিছুদিন কষ্ট হবে,
তারপর পরিবারও নতুন করে লড়াই করতে শিখে যাবে।
তাই নিজের জন্যও বাঁচুন।
ভালো থাকুন।
পরিবারকে সময় দিন।
নির্ভেজাল খাবার খান।
রোগমুক্ত থাকুন।
মনের শান্তিকে গুরুত্ব দিন।
কারণ সত্যিকারের সুখী সে নয় যার শুধু টাকা আছে,
সুখী সে…
যে শান্তিতে বাঁচতে পারে।
🌿
VTOS — Village To Society
“সদা আপনাদের পাশে ও সাথে”।